শুক্রবার, ২রা নভেম্বর, ২০১৮ ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

আসামের নাগরিক পঞ্জি ইস্যুতে মমতা ব্যানার্জির ক্ষোভ অব্যাহত

নিউজ ডেস্ক : ভারতের অাসাম রাজ্যে জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণের খসড়া তালিকা থেকে ৪০ লাখ নাগরিকের নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে উদ্যেশ্য করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতার ক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক খসড়া তালিকায় নাম না থাকার কারণে কয়েকজনের আত্মহত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মমতা অভিযোগ করেন, ‘এনআরসি-এর নামে অাসাম থেকে বাঙালিদের বিতাড়ন করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা কখনও অাসাম ও বাংলার মানুষের মধ্যে বিভেদ করি না। আমরা তাদের উভয়কেই সমান ভালোবাসি। কিন্তু আপনারা কি দেখেছেন যে এনআরসি’এর কারণে অাসামে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। আমরা অাসামের প্রতিবেশী রাজ্য। আপনাদের কি একবারও খারাপ লাগছে না। এনআরসি তালিকায় স্ত্রী ও সন্তানের নাম থাকলেও ওই পরিবারের কর্তার নাম থাকছে না। এই কারণেই ওই মানুষেরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।’

মমতার অভিমত ওই মানুষগুলো নিজেদের আত্মমর্যাদার হারানোর কারণেই আত্মহত্যা করছেন। তারা হয়তো ভাবছেন তালিকায় নাম না থাকলে পরিবার আর সেভাবে মর্যাদা দেবে না, কেউ বাবা বা স্বামী বলে ডাকবে না।

মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার রাসমেলা মাঠ প্রাঙ্গণে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মমতা এসব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, ‘অাসাম থেকে বাঙালি ও গুজরাাট থেকে বিহারীদের তাড়ানো হচ্ছে। অন্য রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের পিটিয়ে মারা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের রাজ্যে (পশ্চিমবঙ্গ) মানুষ খুব শান্তিতে বসবাস করছে। তারা একতার সাথে বাস করছে। কিন্তু কিছু মানুষ এটা সহ্য করতে পারছে না। বিজেপি সবাইকে তাড়ালেও বাংলা তাদের আশ্রয় দেবে। মাথা উঁচু করে আত্মমর্যাদার সাথে তারা এই রাজ্যে বাঁচবে।’

তবে এবারই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার এই ইস্যুতে কেন্দ্রকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। গত ৩০ জুলাই অাসামে প্রকাশিত হয় জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) চূড়ান্ত খসড়া তালিকা। এনআরসি’এর কাছে জমা পড়া ৩.২৯ কোটি আবেদনকারির মধ্যে চূড়ান্ত খসড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ২.৮৯ কোটির কিছু মানুষের নাম। তালিকা থেকে বাদ পড়ে প্রায় ৪০ লাখ বাসিন্দা। এরপরই বিষয়টি নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়। মমতা ব্যানার্জির অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই বিজেপি সরকার এই কাজ করছে। হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা এও বলেছিলেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার যদি তাদের সিদ্ধান্ত বদল না করে তবে গৃহযুদ্ধ লেগে রক্তগঙ্গার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। কবিতার মাধ্যমে বিজেপি’র বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন তিনি।বিডি-প্রতিদিন