মঙ্গলবার, ২৮শে আগস্ট, ২০১৮ ইং ১৩ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

‘আমরা সরকারের কাছে টাকা-পয়সা চাই না, একটু মাথা গোজার ঠাই চাই’

রামু উপজেলার বৃহত্তর গর্জনিয়ার ইউনিয়নের মাঝির কাটা গ্রামে বাঁকখালী নদীর মারত্মক নদী ভাঙনে হাজারও ঘর-বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে প্রতি নিয়ত।

রবিবার বিকেলে ভাঙন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শত শত মানুষ বাকঁখালী নদীর ভাঙন কবলিত হয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ঘর বাড়ি হারা ওইসব মানুষের একটাই আকুতি তারা সরকারের কাছে টাকা পয়সা চায় না, চায় শুধু একটু মাথা গোজার ঠাই, আর বাকঁখালী নদীর ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ।

কক্সবাজার জেলার একজন সাংবাদিক বাকঁখালী নদীর বিষয়ে তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, “স্থানীয় প্রশাসন, এমপি মহোদয়, ও চেয়ারম্যানের সমীপে বলছি, চাল, ডাল চাই না, বাঁকখালী নদী ভাঙনটা ঠেকান”।

সুত্রে জানা গেছে, গত দশ বছর ফসলি জমিসহ আনুমানিক হাজারেরও অধিক ঘর বাড়ি নদী ভাঙন ও বন্যায় ভেসে গেছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম প্রথমবার যখন নির্বাচনে জয়লাভ করে তখনকার সময় গিলাতলি পয়েন্ট থেকে বিশটি গাছের বাঁধ দিয়েছিল। ওই বাঁধগুলো তিন বছরের মাথায় আবার ভেঙ্গে যায়, এরপর সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ অনেক জন প্রতিনিধি বহুবার প্রতিশ্রুতি দিলেও ভাঙনরোধে আর কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান, এলাকার সচেতন মহল।

ওই এলাকার মাষ্টার ইউনুচ জানান, ‘স্থানীয় বাসিন্দা হাজী ইসলামের ঘরবাড়ি ও তাদের বাপ দাদার কবরস্থান পাঁচ বছর আগেই বাঁকখালী নদীতে তলিয়ে গেছে। একই এলাকার জয়নাল হেটম্যান জানান, তাদের এলাকার লোকজন প্রতি বছর বন্যা হলে অথৈই পানির দিকে তাকিয়ে তাদের নিজের ঘর বাড়িগুলো রক্ষা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তখন তাদের চেয়ে থাকা ছাড়া কিছুই করার থাকে না বলে কেঁদে ফেলেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সেচ প্রকল্পের পরিচালক নুরুল আমিন। বাঁকখালী বুকে হাত দেখিয়ে মোহাম্মদ কাশেম নামে আরেক ভাঙন কবলিত এলাকার লোক বলছেন, ওই যে ওইখানে আমার বাড়ি ছিল, দশ বছর আগে ওই বাড়িটি আমরা করেছিলাম। কিন্তু এখন আর তার কিছুই নেই। তারও সামনে আমার চাচা হাজী মোহাম্মদ হোসেনের বাড়ি ছিল। সেটি দুই বছর আগে নদীর ভাঙনে নিয়ে গেছে। একই এলাকার সোলতান আহমদ বলেন, তারা সব সময় আতংকে আছেন কখন যে বাপ দাদার ঘরটা ভেঙ্গে যায়। নদী যে এত কাছাকাছি চলে আসবে, তা কারও কল্পনায়ও ছিল না বলে জানান স্থানীয় এমইউপি কামাল মেম্বার। তিনি জানান, তাদের বাড়ি এখনো ভাঙনের শিকার হয়নি। কিন্তু নদী দুই আড়াইশ গজ দূরে রয়েছে। তাই তারাও প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভয়ে থাকেন বলে আমাদের সময় ডট কমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে জানান।’

এলাকার আরেক বৃদ্ধ লোক জানান, সন্ধ্যা হলে তারা নদী পাড়ে এসে বসে থাকেন। এর কারণ কি জানতে চাইলে ওই লোক বলেন, কখন কোনদিকে নদী যাবে, তা বোঝা যায় না। ভাঙন কবলিত ওইসব মানুষের একটাই দাবী, তাদের জন্য সরকারি কোন রিলিফের দরকার নেই, বরং কর্তৃপক্ষ নদী ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। স্থানীয় বাসিন্দা রশিদ আহমেদ প্রতিবেদককে বলেন ‘‘ আপনি এখন যেখানে দাঁড়িয়ে আছেন, রাস্তার দুইপাশে বাড়িঘর ছিল।আর ওই জায়গাটি গত বছর আর এ বছর মিলিয়ে ভেঙ্গে গেছে। এলাকার হাজারও লোকের একটাই দাবী সংশ্লিষ্ট প্রসাশন ও জন প্রতিনিধিরা নদী ভাঙন বন্ধে কার্যকরি ব্যবস্থা নেওয়ার।