২৪শে আগস্ট, ২০১৬ ইং, বুধবার ৯ই ভাদ্র, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ
  • প্রচ্ছদ » slider 4 » রামপাল ইস্যুতে সংবাদ সম্মেলন করবেন খালেদা জিয়া


রামপাল ইস্যুতে সংবাদ সম্মেলন করবেন খালেদা জিয়া


Amaderbrahmanbaria.com : - ২২.০৮.২০১৬

 
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশেখালেদা জিয়ার চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতা করে সংবাদ সম্মেলন করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পাশাপাশি তার ডাকা জাতীয় ঐক্য-প্রক্রিয়া নিয়েও নিজের অবস্থান ব্যক্ত করবেন তিনি। রবিবার রাতে অনুষ্ঠিত ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক দলের প্রধান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান।|
এদিকে, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া গড়তে বিএনপি সমমনা বুদ্ধিজীবীদের পক্ষ থেকে জামায়াত বিষয়ে দলটির অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানানো হলেও আপাতত সেদিকে যাচ্ছেন না খালেদা জিয়া। ২০ দলীয় জোটকে অক্ষত রেখেই সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় ঐক্য গড়তে আগ্রহী তিনি। জোটের বৈঠকে শরিক নেতারা তাকে জোট অক্ষত রেখে ঐক্য প্রয়াসী হতে পরামর্শ দিয়েছেন। কোনও কোনও শরিক দলের নেতা ‘জামায়াতকে বাদ দেওয়া অসম্ভব’ বলেও মত দেন কাছে।

66f6333721b67afc804c0982a39b54cd-579363e4ce62d
সূত্র জানায়, বৈঠকে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতা করা হয় এবং এর প্রতিবাদে কর্মসূচি দেওয়ার কথা আলোচনা হয়। পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরব যাবেন খালেদা জিয়া। তার সফরের আগেই সমগ্র পরিস্থিতির ওপর সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। দ্রুত এই সংবাদ সম্মেলন গুলশানের কার্যালয়ে আয়োজন করা হবে এবং সেখানে জোটের শরিক নেতারাও উপস্থিত থাকবেন বলে বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি দলের চেয়ারম্যান বাংলা ট্রিবিউনের কাছে দাবি করেন।

সূত্রের দাবি, রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে কর্মসূচি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সমাবেশ ও লংমার্চের আলোচনাও উঠে এসেছে। তবে খালেদা জিয়া হজে যাওয়ার আগে বড় কর্মসূচিতে যাবেন কিনা, এ নিয়ে আলোচনা হয়নি। জোটের সূত্রটির দাবি, কর্মসূচি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া বরাবরের মতো খালেদা জিয়ার উপরেই ন্যস্ত করা হয়েছে। জোটের একজন শরিক নেতা, রামপাল ইস্যুতে আন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলা ট্রিবিউনকে।
সূত্রের দাবি, মূলত সংবাদ সম্মেলনে গণতন্ত্র উদ্ধার, জঙ্গিবাদবিরোধিতা, গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ, রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রে স্থাপনের প্রতিবাদ প্রাধান্য পাবে।
সূত্র জানায়, জোটের বৈঠকে অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, ডা. জাফরুল্লাহর সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ নিয়ে কোনও অবস্থান ব্যক্ত করতে নারাজ খালেদা জিয়া।
রবিবার রাত পৌনে নয়টার দিকে রাজধানীর গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে জোটের বৈঠক শুরু হয়। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টার এই বৈঠকে বিএনপি প্রধানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জোটসমন্বয়ক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া, শরিক দলের মধ্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, এলডিপি সভাপতি কর্নেল অলি আহমদ, জাপা চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ, কল্যাণ পার্টির সভাপতি কর্নেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, জমিয়তের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দীন ইকরামসহ অন্যান্য শরিকদলগুলোর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে মির্জা ফখরুল জাতীয় ঐক্য নিয়ে কথা বলেন। তিনি এই ব্যাপারে খালেদা জিয়াই সব সিদ্ধান্তের কর্তা বলে জানান। তার ভাষ্য ছিল, ম্যাডাম রাষ্ট্রের একজন সাবেক অভিভাবক। প্রধান রাজনৈতিক নেতা। তিনি কাকে নিয়ে বৈঠক করবেন, সেটি একান্তই তার বিষয়। জোটের সঙ্গে নীতিগতভাবে এর কোনও সম্পর্ক নেই। জোট জোটের মতই থাকবে। এসময় অন্যান্য শরিক নেতারাও জোট অক্ষত রাখার পরামর্শ দেন।

ধারণা করা হচ্ছিল, আজকের বৈঠকে জামায়াত যাবে কি-না। এ নিয়েও বিষয়টি পরিষ্কার হল, জামায়াত-বিএনপি সম্পর্ক এখনই কোনও ভাঙনের দিকে যাচ্ছে না। যদিও বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ একাধিক বিশিষ্টজন জামায়াত বিষয়ে বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানান। সম্প্রতি কাদের সিদ্দিকীও খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান।

জোটের একটি দলের মহাসচিব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জামায়াতকে বিএনপির পক্ষে ছাড়া সম্ভব নয়। ভোটের হিসাবে জোট চলে। বাকি সব মিলিয়ে এদের সমান ভোট দিতে পারবে না। ফলে, জাতীয় ঐক্য প্রতিস্থাপিত হলেও ভোটের হিসাবে অন্য অংক থাকবে বিএনপির।

বৈঠক সূত্র জানায়, জামায়াতের প্রতিনিধি মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, জামায়াত গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে রাষ্ট্র স্বাধীন হয়েছে, সেই বাংলাদেশকে রক্ষা করা ঈমানী দায়িত্ব। বৈঠকে নিজের দলকে জঙ্গিবাদের চরম বিরোধী বলে দাবি করেন তিনি। জাতীয়তাবাদ, ইসলামী মূল্যবোধ ও গণতন্ত্রের জন্য বিএনপির সঙ্গে জামায়াত আছে বলে জানান তিনি।

কয়েকজনের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে খালেদা জিয়াও বৈঠকে বলেন, তাদের নিয়ে তো আওয়ামী লীগ ঐক্য করেছিল।

বৈঠকের বিষয়ে ইসলামী ঐক্যজোট একাংশের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব জানান, সব পরিস্থিতি নিয়েই পর্যালোচনা হয়েছে। ম্যাডামকে আমরা সংবাদ সম্মেলন করার পরামর্শ দিয়েছি। তিনি দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলবেন। এটি উনার হজে যাওয়ার আগেই অনুষ্ঠিত হতে পারে।

শরিক একটি দলের মহাসচিব বলেন, আমরা খালেদা জিয়াকে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে পরামর্শ দিয়েছি। বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন চেয়ারম্যান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সম্প্রতি খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাদের সিদ্দিকীর বৈঠকের পর যে আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে যেন ভুল বুঝাবুঝি না হয় সেটাই ছিল বৈঠকের মূল এজেন্ডা। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে না বললেও আলোচনা সেদিকেই ছিল বলে জানান এই নেতা। মির্জা ফখরুল বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন।

তিনি আরও জানান, বৈঠকে শরিকদলগুলোকে সংগঠিত হতে বলা হয়েছে। জঙ্গিবাদ ও গণতন্ত্র বিষয়ে কর্মসূচি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলেও দাবি করেন এই সিনিয়র নেতা।





Loading...


প্রকাশকঃ মোঃ আশ্রাফুর রহমান রাসেল
সম্পাদকঃ জাবেদ রহিম বিজন

Amaderbrahmanbaria.com
email : [email protected] (news)
Phone: +880851 62307
+8801963094563



close