মঙ্গলবার, ১৩ই জুন, ২০১৭ ইং ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

জেনে নিন দাম্পত্য জীবন ব্যাহত হয় যে কারণে

AmaderBrahmanbaria.COM
আগস্ট ২৪, ২০১৬

---

Lifeলাইফস্টাইল ডেস্ক : প্রতিটি মানুষ বিশেষ করে পুরুষ চায় আমৃত্যু তার নারী সঙ্গীটির কাছে নিজেকে প্রাঞ্জলভাবে উপস্থাপন করতে। কোনো মহিলাও চায় না তার পুরুষ সঙ্গীটি তাকে কখনো নিষ্কর্মা ভাবুক। কিন্তু শারীরিক কিছু অবস্থার কাছে নারী কিংবা পুরুষের চাওয়া-না চাওয়া গুরুত্বহীন হয়ে ওঠে। তবে শারীরিক এ অবস্থাগুলো সৃষ্টি হলেও চিকিৎসা ও সচেতনতার মাধ্যমে সেসব দূর করা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক যেসব স্বাস্থ্য সমস্যায় মানুষের দাম্পত্য জীবন ব্যাহত হতে পারে-

১. ডায়াবেটিসঃ-
একজন মানুষের- সে নারী বা পুরুষ যেই হোক না কেন, তার যৌনজীবনকে স্তব্ধ করে দিতে ডায়াবেটিস রোগটিই যথেষ্ট। ডায়াবেটিসের কারণে পুরুষের পৌরুষত্বহানি এবং মেয়েদের অনীহা পরিলক্ষিত হয়। নিয়মিত ডায়েটিং, ব্যায়াম এবং ইনস্যুলিন চিকিৎসার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনলে যৌন-ক্ষতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। ডায়াবেটিসের কারণে যেসব পুরুষের স্থায়ী পৌরুষত্বহানি ঘটেছে একমাত্র পিনাইল ইমপ্ল্যান্টের মাধ্যমে তাদের চিকিৎসা দেয়া সম্ভব।

২. আর্টারিও স্ক্লেরোসিসঃ-
আর্টারি বা ধমনি শক্ত হয়ে গেলে পুরুষের লিঙ্গোত্থানের জন্য প্রয়োজনীয় রক্ত সেখানে সরবরাহ হতে পারে না। আর্টারিও স্ক্লেরোসিস সাধারণত ধূমপায়ীদের এবং যারা চর্বিযুক্ত খাবার খান তাদের হয়ে থাকে। এ সমস্যাটি প্রতিরোধে তাই ধূমপান বর্জন, চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার ও নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।

৩. প্রোস্টেটাইটিসঃ-
এটি পুরুষদের রোগ। প্রোস্টেট গ্রন্থির প্রদাহের ফলে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, সরু ধারায় প্রস্রাব হওয়া, মূত্রথলি সম্পূর্ণ খালি না হওয়া প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দেয়। যুবক এবং প্রৌঢ় উভয়ই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। প্রোস্টেটাইটিসের ফলে পুরুষের যৌনক্ষমতা অনেক কমে যায়। এ ক্ষেত্রে তাকে প্রচুর পরিমাণে পানি এবং চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে।

৪. সিসটাইটিসঃ-
এটি হচ্ছে মূত্রথলির প্রদাহ। এ ক্ষেত্রে রোগীর মূত্রপথে চুলকানি, জ্বালাপোড়া, প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া কিংবা বারবার প্রস্রাব করতে হয়। পুরুষদের চেয়ে মহিলারা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। সিসটাইটিসের ফলে নারী কিংবা পুরুষ উভয়ের যৌন ইচ্ছা কমে যায়। প্রচুর পরিমাণ পানি এবং সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক হচ্ছে এর কার্যকর চিকিৎসা।

৫. মানসিক চাপঃ-
মানসিক চাপ পুরুষ ও মহিলার যৌনজীবনের ওপর বিশাল প্রভাব ফেলে। মানসিক চাপের ফলে একজন পুরুষের পুরুষত্বহানি ঘটতে পারে, মহিলাদের ক্ষেত্রে ঘটতে পারে রাগমোচনের অভাব কিংবা কামশীতলতা। অনেক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ বা নারী প্রায় প্রতি মাসেই এ ধরনের মানসিক চাপের শিকার হন। এ ক্ষেত্রে মানসিক চাপ কাটিয়ে ওঠার জন্য কারণ খুঁজে বের করে তার চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। ক্ষেত্রবিশেষে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে।

৬. হরমোনের পরিবর্তনঃ-
বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে মেনোপজের সময় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে যৌন ইচ্ছা কমে যায়। প্রথম প্রথম যৌন ইচ্ছা প্রবল হলেও পরে যোনিপথের পিচ্ছিলতা ও মসৃণতা কমে যাওয়ার কারণে যৌনসঙ্গমে অনীহা চলে আসে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেন প্রতিস্থাপন থেরাপি কার্যকর। এ সময় নিয়মিত ভিটামিন ‘ই’ খেতে হবে।

৭. পিআইডিঃ-
এটি মহিলাদের তলপেটের রোগ। সাধারণত যুবতী এবং যৌনভাবে সক্রিয় যেকোনো বয়সের মহিলাদের এটা ঘটতে পারে। এর ফলে যৌনজীবন দুঃসহ বলে মনে হয়। জরায়ু, জরায়ুনালী, ডিম্বাশয়, ডিম্বনালী প্রভৃতি অঙ্গে সংক্রমণ ঘটে। সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক সহকারে এর চিকিৎসা করা হয়।

৮. ফাইব্রয়েডঃ-
ফাইব্রয়েড হচ্ছে জরায়ুর টিউমার। এ ক্ষেত্রে মহিলাদের প্রচুর রক্তস্রাব ও তলপেটে ব্যথা হয়। ফলে তারা যৌনক্রিয়ার প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে। জরিপে দেখা গেছে, ৩০ বছরের ওপরের ২০ শতাংশ মহিলার ফাইব্রয়েড রয়েছে। অপারেশন করে ফাইব্রয়েড মুক্ত করলে যৌনসংক্রান্ত সমস্যা মিটে যায়।

এ জাতীয় আরও খবর