g ৭ বছরেও নিস্পত্তি হয়নি এডভোকেট তুলি হত্যা মামলা : বাদী, স্বাক্ষীদের হত্যার হুমকি | AmaderBrahmanbaria.Com – আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া

সোমবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ২৭শে ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

৭ বছরেও নিস্পত্তি হয়নি এডভোকেট তুলি হত্যা মামলা : বাদী, স্বাক্ষীদের হত্যার হুমকি

AmaderBrahmanbaria.COM
নভেম্বর ২৪, ২০১৫
news-image

---

মাহবুব খান বাবুল, সরাইল থেকেঃ দীর্ঘ ৭ বছরেও নিস্পত্তি হয়নি চাঞ্চল্যকর এডভোকেট নাসরিন আক্তার তুলি (২৮) হত্যা মামলা। আসামী আমিন ও তার প্রভাবশালী স্বজনরা বাদী স্বাক্ষীদের অজ্ঞাতনামা নাম্বার থেকে ফোনে দিচ্ছে হত্যার হুমকি। তাই আতঙ্কে রয়েছে তুলির পিতা স্বাক্ষীসহ স্বজনরা। সরাইল থানায় এ বিষয়ে ১৪ নভেম্বর জিডি করেছেন (নং-৬৯৮) তুলির বাবা। তুলি হত্যার বিচারের প্রহন গুনছে তার বৃদ্ধ মা বাবাসহ গোটা পরিবার। কবে হবে বিচার? আদৌ হবে কিনা? এমন সব প্রশ্নই এখন ঘোরপাক খাচ্ছে তাদের মনে। নিহত তুলি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলা সদরের কুট্রাপাড়া গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা রফিজ উদ্দিন খানের মেয়ে। মামলা ও তুলির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিক্ষানবীশ আইনজীবী তুলি ঢাকার সেগুনবাগিচায় ১টি বাড়ির তয় তলার ১টি কক্ষে সাবলেট ভাড়া থাকত। একই ফ্ল্যাটে স্ত্রী মা বাবা বোনদের নিয়ে থাকত আমিন। বিবাহিত আমিন হঠাৎ করে তুলিকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে সে প্রত্যাখান করে। এতে তুলির উপর চরম ক্ষুদ্ধ হয়ে দেখে নেয়ার হুমকি দেয় আমিন। ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টা। কোর্টে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তুলি। কিছু বুঝে উঠার আগেই পরিবারের সকলের সামনে তুলির উপর হামলা চালায় নরঘাতক আমিন। আত্মরক্ষার জন্য দৌড় দেয় তুলি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। আমিন শিড়ির মধ্যে তুলিকে ধরে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এক সময় তুলির দেহ থেকে মাথাকে আলাদা করে ফেলে। মস্তক বের করে মাথা হাতে নিয়ে রাস্তায় উল্লাস করতে থাকে। লোকজন ঘাতক আমিনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। আমিন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্ধিও দিয়েছে। লোমহর্ষক এ ঘটনায় নিহত তুলির ভাই মো. সালাহউদ্দিন খান পাপ্পু বাদী হয়ে পরের দিন(২৪.১০.২০০৮) শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আমিন তার স্ত্রী মা বাবা দুই বোনসহ ৬ জনকে আসামী করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় এস আই মো. আমিরুল ইসলামকে। দুইমাস পর ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ জানুয়ারী ৫ আসামীকে বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র (নং-১৮) জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগ পত্রে বাড়ির মালিক, আশপাশের ভাড়াটিয়া ও প্রত্যক্ষদর্শী এক রিকশাচালককে স্বাক্ষী করা হয়। বাদী পক্ষের অভিযোগ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে চাঞ্চল্যকর এ হত্যার প্ররোচনাকারী ৫ আসামীর নাম কেটে দিয়েছে পুলিশ। ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে বাদী পাপ্পু স্বাক্ষী দিয়েছে। কিন্তু অন্য স্বাক্ষীদের আসামী পক্ষের লোকজন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছে। তাই তারা ভয়ে স্বাক্ষী দিতে যায়নি। ইতিমধ্যে অনেকে অন্যত্র চলে গেছে। দায়রা মামলা নং-৭৬/০৯ এর কোন অগ্রগতি নেই। দীর্ঘ ৭টি বছর অতিক্রম হয়ে গেলেও চাঞ্চল্যকর তুলি হত্যা মামলার কোন কুলকিনারা হচ্ছে না। সম্প্রতি মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য তুলির ভাই পাপ্পু ও তার বাবাকে অজ্ঞাত (ইন্টারনেট) নাম্বার থেকে ফোন করে হুমকি দিচ্ছে আমিনের স্বজনরা।  নিহত তুলির বাবা রফিজ উদ্দিন ও মাতা মোছা. রেনুকা পারভিন (৫০) বলেন, মৃত্যুর আগে আমাদের উঠতি বয়সের মেয়েটির নির্মম ও নৃশংষ ভাবে হত্যাকারীদের বিচার দেখে যেতে চায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমাদের ফরিয়াদ দ্রুত মামলাটির বিচার কাজে সহযোগীতা করুন।  
 

 

এ জাতীয় আরও খবর