g তিন আওয়ামীলীগ নেতার বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলোচনার ঝড় | AmaderBrahmanbaria.Com – আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া

সোমবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ২৭শে ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

তিন আওয়ামীলীগ নেতার বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলোচনার ঝড়

AmaderBrahmanbaria.COM
জানুয়ারি ১৬, ২০১৭

---

আমিরজাদা চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান শফিকুল আলম এমএসসিকে জেলা পরিষদে বরন করে নেয়ার অনুষ্ঠানে কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতার বক্তব্য তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। রোববার জেলা পরিষদের কর্মকর্তা কর্মচারীরা নতুন চেয়ারম্যানের আগমন উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামীলীগের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতাও উপস্থিত ছিলেন।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মো:আবদুল আলীমের সভাপতিত্বে এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানুল হক সেন্টু,সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মো:হেলাল উদ্দিন,সহ সভাপতি তাজ মোহাম্মদ ইয়াছিন প্রমুখ। সভায় আওয়ামীলীগ নেতারা জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে বিষদাগার করে বক্তৃতা করেন।
সহ-সভাপতি তাজ মো: ইয়াছিন তার বক্তৃতায় বলেন শফিকুল আলম এমএসসি’র বিজয়ের ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নমরুদের শাসনের অবসান ঘটলো।সিনিয়র সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন আজকে মুখ বন্ধ রাখার সময় নয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ চাচ্ছে আমরা যেন মুখ খুলি। তিনি বলেন জেলা পরিষদ নির্বাচনে কোন বাইন্ডিংস ছিলোনা। তারপরও আমরা দলীয় প্রার্থীর নির্বাচন করেছি। শফিকুল আলম আওয়ামীলীগে ছিলেন,আওয়ামীলীগেই আছেন। তাকে ষড়যন্ত্র করে দল থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন জেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে এক প্রকৃত নেতারা জায়গা পায়নি। এই নেতাদের কেউ কেউ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ই থাকেননা। তারা ঢাকা ও বিদেশে থাকে। কেউ ঢাকায় ব্যাংকে চাকুরী করেও জেলা আওয়ামীলীগে পদ পেয়েছে। তিনি বলেন সাবজেক্ট কমিটির আমিও সদস্য ছিলাম।কিন্ত কমিটি যখন হয় তখন আমি মুখ খুলতে পারিনি। কারন আমার সামনে ছিলো পৌরসভা নির্বাচন। আজকে জেলা আওয়ামীলীগকে ষড়যন্ত্রকারীদের হাত থেকে বাচাতে হবে। উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমানুল হক সেন্টু বলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অসুরের নেতৃত্ব বিরাজমান। আজকে দু:খ লাগে জেলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এক নেতা যখন বলেন শফিকুল আলম দলের কেউ না। তিনি ওই নেতাকে উদ্দেশ্যে করে বলেন আওয়ামীলীগ আপনার পৈত্রিক সম্পত্তি নয়। আওয়ামীলীগ বঙ্গবন্ধুর সংগঠন। জননেত্রী শেখ হাসিনার সংগঠন। সেন্টু বলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ সবই জানে। এতোদিন কথা বলতে পারেনি জেলে যাওয়ার ভয়ে। জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করে সেন্টু বলেন ইউপি নির্বাচন ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে আপনারা লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন । এর জবাব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের কাছে দিতে হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে কলুষমুক্ত করার কথাও বলেন সেন্টু তার বক্তৃতায়।অনুষ্টানে এই তিন নেতার বক্তৃতার সময় করতালি দিয়ে সাধুবাদ জানান মিলনায়তনে উপস্থিত শতশত লোক। দলে নানাভাবে কোনঠাসা এই নেতাদের বক্তৃতা ঝড় তুলেছে শহরে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের বক্তৃতার অডিও-ভিডিও রেকর্ড ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
জেলা আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত শফিকুল আলম এমএসসি তার বক্তৃতায় আধুনিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়তে জেলা পরিষদ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা এবং জেলাবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মো: আবদুল আলীম চেয়ারম্যানকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষনা করেন।পরে অনুষ্টিত হয় দোয়া মাহফিল।

 

এ জাতীয় আরও খবর