বৃহস্পতিবার, ৩১শে মে, ২০১৮ ইং ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে ভয়ঙ্কর প্রতারণা

news-image

জাবেদ রহিম বিজন/ মাহবুব খান বাবুল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:-
গ্রামের লোকজন জানেন রাষ্ট্রপতির ওখানেই তার চাকুরী,রাষ্ট্রপতির সঙ্গেই তার উঠাবসা। আর প্রধানমন্ত্রী তো তাকে অহরহ ফোন করেন। কল এলেই তার মোবাইল স্কিনে ভেসে উঠে প্রধানমন্ত্রীর ছবি। এমন ঘটনার স্বাক্ষী অনেকেই। ব্যবসা-বানিজ্যের তো অভাব নেই। বড় ব্যবসায়ীর পরিচিতি ঝুলছে তার কার্ডে । দেশ-বিদেশে ব্যবসা। কোটি টাকার ব্যাংক ড্রাফট থাকে তার পকেটে। বলে বেড়ান প্রধানমন্ত্রী তার ব্যবসায়িক পার্টনার। শুধু তাই নয় র‌্যাব-পুলিশের বড় কর্মকর্তারাও তার আত্বীয়। যে কোন চাকুরী, বদলি, তদবির, অস্ত্রের লাইসেন্স ও বিদেশ পাঠানো মামুলি ব্যাপার তার কাছে। নিজের স্ত্রী রাজউকের বড় কর্মকর্তা। তাই হাতের ইশারাতেই প্লট পাইয়ে দিতে পারেন তিনি। সম্প্রতি অবশ্য বলছেন তার স্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তবে এসবের কোনটাই আসল নয়। সবই নকল। সত্যি শুধু প্রতারণা। ভয়াবহ এই প্রতারকের নাম সুমন। পুরো নাম মো. নজরুল ইসলাম (৩৬)। যদিও সুমন নামেই সবার কাছে পরিচিত সে। থাকেন ঢাকার দক্ষিণ বাড্ডায় ভাড়া বাড়িতে। প্রতারনা করে ধাবরিয়ে বেড়াচ্ছেন গোটা ঢাকা শহর। তার প্রতারণার জাল বিস্তৃত রয়েছে সারা দেশে। সর্বশান্ত করেছেন অনেককেই। রাজউকে প্লট-চাকুরী পাইয়ে দেয়ার কথা বলে শত মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। তার প্রতারনার শিকার হয়ে টাকার শোকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একজন মারাও গেছেন। রাষ্ট্রপতির নামভাঙ্গিয়ে প্রতারনা করার অভিযোগে থানায় সাধারন ডায়েরীও হয়েছে তার বিরুদ্ধে। আছে আরো একাধিক জিডি। নিজের প্রতারনা ধামাচাপা দিতে সুমন ক্ষমতাধর কিছু ব্যক্তির মনোরঞ্জনের খোরাক যোগানের বিষয়টি এখন লোকজনের মুখে মুখে। 
সুমনের খপ্পরে পথে বসেছেন যারা: স্ত্রী রাজউকের বড় কর্মকর্তা। প্লট পাইয়ে দেয়া তার কাছে ওয়ান-টু এর ব্যাপার।  এই বলে সুমন অনেক লোকের কাছ থেকে ৪ লাখ থেকে শুরু করে ৮/১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। প্লটের মোয়াক্কেলদের পে-অর্ডার সহায়তা দিয়েই হাতিয়ে নেন টাকা। আবেদন করার সময় পেড়িয়ে গেছে কিন্তু সমস্যা নেই। সেই ব্যবস্থাও আছে সুমনের কাছে। পেছনের তারিখের আবেদনের সঙ্গে মিলিয়ে পে-অর্ডার সরবরাহ করে সে। তাও চটজলদি। তার পকেটেই থাকে পে-অর্ডারের মজুদ। সেই পে অর্ডার শিকার কে দিয়ে বলে আবেদন করুন। আপাতত: আমাকে কিছু টাকা দেন। ৫/৬ লাখ টাকার পে-অর্ডারের বিপরীতে ৩/৪ লাখ টাকা অনায়াসে দিয়ে দেয় আবেদনকারী যে কেউ। এভাবেই একে একে নজরুলের কাছে ধরা খেয়েছে শতাধিক লোক। মাসের পর বছর। প্লটের দেখা আর পাচ্ছেননা তারা। টাকাও হাওয়া। মানুষকে তার প্রতি আকৃষ্ট আর বিশ্বস্থ হিসেবে তুলে ধরার প্রতারনার কৌশলও অভিনব। 
কারো সাথে কথা বলা শুরু করলেই তার মুঠোফোনে কল আসে। স্ক্রীনে ভেসে উঠে প্রধানমন্ত্রীর ছবি। আশপাশে থাকা লোকজনকে বলেন, রাখেন ম্যাডাম ফোন করেছেন। জানেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি শাকিল আহমেদ আমার সহোদর মামা ও ব্যবসায়িক পার্টনার। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ আমার আত্মীয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও আমার ব্যবসা-বানিজ্য আছে। পুলিশের অমোক ডিআইজি,তমোক কর্মকর্তা আমার স্বজন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ অনেকেই সুমনের ফোনে বিশেষ ব্যাক্তির ফোন কল প্রতারনার প্রত্যক্ষদর্শী।এভাবে ফাদে পড়া লোকজনের কাছ থেকে চাকুরী প্রদান ও নানা তদবিরের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় সে। হয়নি চাকুরী। কোন ফলাফল নেই তদবিরের। কিন্তু টাকা নিয়ে লাপাত্তা নজরুল। ডজন খানেক নাম্বার ব্যবহার করায় নজরুলকে ফোনে পাচ্ছেননা তারা। মাঝে মধ্যে কারো সাথে দেখা হয়ে গেলে টাকা চাইলেই দেয় হুমকি। দেখানো হয় প্রাণনাশের ভয়। প্রতারিত লোকজনকে সামাল দিতেও বিশেষ বিশেষ লোকের ভয় দেখায় সে। মোটা অংকের টাকা হারিয়ে লোকজন এখন দিশেহারা। গোছালো কথা বার্তা ও অভিনব কৌশলে অগণিত লোককে পথে বসিয়েছে সুমন। সরাইলের নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বাড়িউড়া গ্রামের জামাল উদ্দিন চিশতী। তিনি কাগড়ের ব্যবসা করেন ঢাকার গুলশান-২ এ। রাজউকে প্লট দেয়ার কথা বলে পটিয়ে তার কাছ থেকে নিয়েছে ৪ লক্ষাধিক টাকা। সেই সাথে ২টি আই ফোন ও ১টি এন্ডরয়েড মোবাইল সেট। দীর্ঘদিন হয়েছে প্লটের দেখা নেই। সুমনকেও খুঁজে পাচ্ছেন না জামাল উদ্দিন। ওই টাকার জন্য এখন শুধু চোখের জল ফেলছেন তিনি। একই উপজেলার চুন্টার ঘাগড়াজোড় গ্রামের দরিদ্র পরিবারের আবু সাঈদ মিয়ার ছেলে তাবারককে আনসার বিভাগে চাকুরী দেয়ার কথা বলে সুমন নিয়েছিলেন ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। চাকুরী ও টাকা কোনটারই হদিস নেই। এই টাকার শোকে অসুস্থ্য হয়ে তাবারকের পিতা শেষমেষ মারা যান ।  পুরাতন ঢাকার ব্যবসায়ি কবির মিয়া বলেন, মানুষের সাথে প্রতারণা ও বাটপারি করার জন্য যে জ্ঞান দরকার তার সবটাই আছে সুমনের। আমার এক বন্ধুর আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স করে দেয়ার কথা বলে বেশ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন সে লাপাত্তা। আরেক বন্ধুকে দিয়েছে ১০ কোটি টাকার পে-অর্ডার। ঢাকার এক ব্যবসায়িকে পটিয়ে ১ কোটি টাকা ধার নেন সুমন। পরে তাকে ৫০ লাখ টাকার ১টি চেক (নং- ৮৫৯১০৩৫, যমুনা ব্যাংক, ময়মনসিংহ শাখা) দেন। ব্যাংকে গেলে ওই চেকটি ডিজঅনার হয়। জামালপুরের বাবু জানান, অল্প সময়ের মধ্যে অষ্ট্রেলিয়া পাঠানোর কথা বলে সুমন তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেয়। কারন সেখানে নাকি তার নিজস্ব গার্মেন্টস রয়েছে। ঢাকায় নিয়ে তাগাদা দিয়ে ডাচ বাংলা ব্যাংকে হিসাব খোলান। ছবি উঠান। তিন মাস পেরিয়ে গেলেও কোন অগ্রগতি নেই। টাকা ফেরত চাইতেই চেহারা বদলে যায় সুমনের। তারিখের পর তারিখ দিয়ে ঘুরাতে থাকেন। বাবুকে ঢাকায় সুমনের ফ্ল্যাট বাসায় নিয়ে যান। আলমিরা থেকে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বের করে দেখান। আর বলেন এগুলো দিয়ে মানুষ মারলে শব্দ হয় না। সম্প্রতি আমরা চার ভাই মিলে গ্রামে একটি জমি দখল করে এসেছি। ময়মনসিংহ শহরে আমার ছয়টি বাড়ি আছে। তখন আমি তাকে বলি আমার তো এতকিছু জানার দরকার নেই, টাকাটা দিয়ে দেন। এ কথা বলতেই আমার উপর ক্ষুদ্ধ হয় সুমন। টাকার জন্য আমি তার গ্রামের বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে শুনি তার বাবা  ট্রাক চালক। ট্রাক চালকের ছেলে সুমন হিসেবেই সবাই তাকে চিনে। গ্রামের অনেক লোক তার সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করে। অনেক ভোগান্তির পর সে আমাকে ২ লাখ টাকার একটি চেক দেয়। আমি সোনালী ব্যাংক জামালপুর শাখায় জমা দিলে ওই চেকটি চারবার ডিজ-অনার হয়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এক সময় চেক দাতাকে চিটার আখ্যায়িত করেন। এছাড়া রাজউকের প্লট দেওয়ার কথা বলে ঢাকার মহাখালীর মঞ্জুরুল আলমের কাছ থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার, এ্যালিফেন্ট রোডের ব্যবসায়ী নাছিরের কাছ থেকে ৬ লাখ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার হানিফ মিয়ার কাছ থেকে ৫ লাখ, কাপড় ব্যবসায়ী নাছির মিয়ার কাছ থেকে ২৫ লাখ, টাঙ্গাইলের ফখরুলের কাছ থেকে সুমন ৫ লাখ টাকা নিয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে । প্লট না পেয়ে অগনিত লোক এখন টাকার জন্য সুমনকে খুজছে। লাপাত্তা নজরুল ইসলাম সুমন। ইতিমধ্যে তিনি বাড্ডার বাসা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। 
প্রতারনার অস্ত্র ভূয়া পে-অর্ডার:নজরুলের কাছে প্রতারনার শিকার লোকজন জানান-বিভিন্ন ব্যাংকের নামে নিজের তৈরী ভূয়া পে-অর্ডারই ছিল নজরুল ইসলাম সুমনের প্রতারণার মূল হাতিয়ার। পাওদারকে চেক দিয়ে দ্রুত ওই চেকটি হারিয়ে গেছে উল্লেখ করে জিডি করা ছিল তার কৌশল। পেছনের তারিখের ৪০-৫০টি পে-অর্ডার সব সময় থাকে তার পকেটে। এর অধিকাংশ পে-অর্ডারই জাল। ওই জাল পে-অর্ডার দিয়েই অনেকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে সে মোটা অংকের টাকা। প্লটের আবেদনের সময় শেষ। কোন সমস্যা নেই। আমার কাছে ৪ লাখ থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকার পেছনের তারিখের পে-অর্ডার আছে। এভাবেই সুমন তার মোয়াক্কেলকে আশ্বস্থ করে বলে আপাতত ২/৩ লাখ টাকা দেন। আমিই পে-অর্ডার দিয়ে আমার স্ত্রী সুফিয়ার মাধ্যমে আবেদন জমা দিয়ে দিচ্ছি। বিক্রমপুরের কবির মিয়াকে ঢাকার পান্থপথ শাখার প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে গিভেন্সি গ্রুপ এর নামে ইস্যুকৃত  ৯ কোটি টাকার ১টি ভূয়া পে-অর্ডার (নং- ০২৩১৮৫২, তাং-২০/০৩/২০১৪) দিয়ে ৫ লাখ নিয়েছে সুমন । আবার কবিরকে ব্যবসার জন্য পরবর্তীতে আরো ৫০ লাখ টাকার দেয়ার লোভ দেখায়। ব্যাংকে গিয়ে কবির দেখেন ওই পে-অর্ডার জাল। ওই ব্যাংকের ব্যবস্থাপক আবদুল কাইয়ুম জানান, উল্লেখিত তারিখে এমন নাম্বারে ৯ কোটি টাকার কোন পে-অর্ডার তাদের ব্যাংক থেকে ইস্যু হয়নি। ময়মনসিংহ পৌরসভার প্রকৌশলী মো. জিল্লুর রহমান বলেন, রাজউকের প্লটের আবেদনের জন্য পে-অর্ডারের কথা বলে সুমন আমার কাছ থেকে ৪ বছর আগে ১২ লাখ টাকা নিয়েছে। এখন সে লাপাত্তা। আমাকে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের অনলাইনের একটি খালি চেক দিয়েছিল। একাউন্টে টাকা নেই। আসলে সে ও তার পরিবারের সবই চিটার। প্রতারনার মাধ্যমে মানুষের টাকা আত্মসাত করে ছনের ঘর থেকে পাকা বাড়ি বানিয়েছে। এখানকার অনেকের টাকা মেরে খেয়েছে। আমি তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ময়মনসিংহ পৌর শহর ও তার গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, সুমন অনেক দিন ধরে এখানকার অগনিত মানুষকে প্লট ও চাকুরী দেয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এলাকার পাওনাদারা চাপ দিলে ঢাকায় আর ঢাকার লোকজন চাপ দিলে এলাকায় চলে আসে। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে পৃথিবীর ক্ষমতাধর লোকজনের সাথে তার উঠাবসা, ব্যবসা বাণিজ্য। সুমন এমনটি সবসময় চাউর করে বেড়ায় সর্বত্র। প্রতারনাই তার মূল পেশা। তার সকল অপকর্মের সাথে স্ত্রীর সুফিয়া বেগমেরও যোগসাজস রয়েছে।      
থানায় জিডি: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর আত্বীয় পরিচয়ে প্রতারনা করার অভিযোগে ঢাকার রামপুরা থানায় সুমনের বিরুদ্ধে একটি সাধারন ডায়েরী হয়েছে। গত ১৫ ই সেপ্টেম্বর এটি করা হয়। যাতে বলা হয়- দক্ষিন বাড্ডার ইকো ভিলেজের ২০১/২,ট নম্বর বাসার নজরুল ইসলাম সুমন (৩৬) মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আত্বীয় পরিচয়ে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে রাজউকে প্লট দেবে বলে টাকা পয়সা নিচ্ছে। স্থানীয় লোকজন আমাকে (সাধারন ডায়েরীর বাদী ) বিষয়টি জানাইলে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলে সে আমাকে ভয়ভীতি ও হুমকী প্রদর্শন করে। পরে গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় রামপুরা টিভি সেন্টারের সামনে আমি নজরুলকে পেয়ে বিষয়টি আবারো জিজ্ঞেস করলে সে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। বলে বিষয়টি আমি কাউকে জানালে সে আমার জীবন শেষ করে দেবে।  এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর রামপুরা থানায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির মান সম্মান ক্ষুন্ন করার বিষয় উল্লেখ করে সাধারন ডায়েরীটি করা হয় (নং-৬৫৮)। সুমন  মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ডের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ না পাওয়ায় হত্যার হুমকি দেয় যুব কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম বাচ্চুকে। তিনি মিরপুর মডেল থানায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে একটি  জিডি (নং-১০৭৩) করেছেন। সুমনের প্রাইভেটকার চালক মাদারীপুরের নাছির সরদার তিন মাসের বকেয়া বেতন চাওয়ায় তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। নাছির গত ১৬ সেপ্টেম্বর রামপুরা থানায় এ বিষয়ে একটি জিডি করেছেন (নং-৭৪৭)। রামপুরা থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বলেন- সুমন হচ্ছে বিশ্ব বাটপার। অনেক মানুষ তার প্রতারনার শিকার। ও এখন ঢাকা শহর ছেড়ে পালিয়েছে। তার মোবাইল ফোনগুলোও  বন্ধ।  
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্যে সুমনের একাধিক মোবাইল ফোনে (০১৭১১-৫৫৬০৭৭, ০১৫১১-৩১৩১৩১, ০১৫৫২-৮৮২২১২, ০১৮৪২-৫৯৮০৯০, ০১৭১১-৫৯৮০৯০, ০১৯১১-১৭২৫৭৯, ০১৯৫৫-২৭৪৪৬৯, ০১৭১১-৫৯৭৪৭৪, ০১৭১৬-৭৭৯৬৯৬, ০১৭৫০-৪৭২২২২, ০১৬১১-৫৯৭৪৭৪)  রিং করে সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায় । সম্প্রতি সরজমিনে খোজখবর নেয়ার সময় সুমনের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তার পিতা আবদুল মান্নানের  খোজ করে পাওয়া যায়নি। পরে একটি মোবাইল নাম্বারেও (০১৭১১-২২১৪১১) চেষ্টা করে তার সঙ্গে কথা বলা যায়নি।  
কে এই সুমন: ময়মনসিংহ জেলার শম্ভুগঞ্জ উপজেলার চরইশ্বরদিয়া ইউনিয়নের চরলক্ষীপুর গ্রামে বাড়ি সুমনের। পরিবহন শ্রমিক নেতা আবদুল মান্নানের ৫ ছেলে ১ মেয়ের মধ্যে সুমন সবার বড়। সরজমিন অনুসন্ধানে চরলক্ষীপুর গ্রামে গেলে অনেকেই জানান সুমন ঢাকায় থাকে। রাষ্ট্রপতির ওখানেই থাকে বলে জানান গ্রামের মানুষ। তাছাড়া তার নানা ব্যবসা আছে। ইব্রাহিম নামের একজন জানান-গত ৪ বছর ধরেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আছে সুমন। পাশের কিশোরগঞ্জে রাষ্ট্রপতির বাড়ি জানিয়ে আরো বিবরন দেন এই ইব্রাহিম। জানান, সুমনের তেল মবিলের ডিলারশীপও আছে। গ্রামে ৫০/৬০ কাঠা জমি কিনেছেন। সুমন মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসে। ২/১ দিন থেকে আবার চলে যায়। খোজ নিয়ে জানা গেছে- ঢাকার দক্ষিণ বাড্ডার ইকু ভিলেজে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন নজরুল ইসলাম সুমন। লেখাপড়ার দৌড় খুব একটা নেই তার। উল্লেখযোগ্য কোন ব্যবসা বাণিজ্যও নেই। কোন চাকুরীও করেন না। অবশ্য তার ভিজিটিং কার্ডে এন আর এস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তার পরিচয় রয়েছে। এই গ্রুপে রয়েছে সুয়েটার ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড,ফাইন নিট ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড,ফাইন ওয়্যার ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড,ডেভরপমেন্ট লিমিটেড,কোম্পজিট লিমিটেড,স্পিনিং মিলস লিমিটেড,রইয়ন এয়ার বিডি লিমিটেড,লুবিচেম ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড নামের ৮ টি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ছাড়াও আমেরিকা,লন্ডন,সংযুক্ত আরব-আমিরাত,ভারতে রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের শাখা অফিস। ভুক্তভোগী লোকজন জানিয়েছেন কার্ডের এই পরিচয়ের সঙ্গে বাস্তবের কোন মিল নেই। তবে কেতাদূরস্ত সুমন। টিপটপ চলাফেরা তার। তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম স্মৃতি মাধ্যমিক পাস। বর্তমানে তিনি গৃহিনী। কিন্তু নজরুল মানুষের কাছে বলে বেড়ান স্মৃতি রাজউকের একজন বড় কর্তা। প্লট দেয়ার দায়িত্ব তার হাতেই। অতিসম্প্রতি তার স্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিয়ে বেড়াচ্ছেন।

 

 

Print Friendly, PDF & Email