g মিয়ানমারের রাখাইনে চীনের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অর্থনৈতিক স্বার্থ | AmaderBrahmanbaria.Com – আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া

শনিবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমারের রাখাইনে চীনের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অর্থনৈতিক স্বার্থ

AmaderBrahmanbaria.COM
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৭

---

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পশ্চিমে, যেখান থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে দেশটির সেনাবাহিনী ক্লিয়ারেন্স অপারেশন চালাচ্ছে, সেখানেই রয়েছে চীনা বিনিয়োগে কাইয়ুকফাইয়ু বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড)। ২০১৩ সালে মিয়ানমার ও চীনা সরকার যৌথভাবে এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে শিল্প ও অবকাঠামো তৈরির জন্য এই শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হয়। এই শিল্পাঞ্চলটি ১ হাজার ৭০০ হেক্টর এলাকা নিয়ে গঠিত। শিল্পাঞ্চলটির জন্য মূল বিনিয়োগ সরকারি পর্যায়ে হলেও এতে বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানিও জড়িত হয়। এদের মধ্যে রয়েছে চীনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সিটিক গ্রুপ।

 

 

 

এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে তিনটি বৃহৎ প্রকল্প রয়েছে। যেগুলোর সঙ্গে চীনের স্বার্থ জড়িত।

 

গভীর সমুদ্র বন্দর

 

কাইয়ুকফাইয়ুর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হচ্ছে এই গভীর সমুদ্র বন্দর। এই প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

 

চলতি বছরের মে মানে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুসারে, সিটিক কনসোর্টিয়ামে তিনটি বড় চীনা কোম্পানি ও থাইল্যান্ডের একটি কোম্পানি রয়েছে। এই বন্দরটির ৭০-৮৫ শতাংশ মালিকানা চেয়েছে সিটিক গ্রুপ। বাকি অংশের মালিকানা থাকবে মিয়ানমার সরকারের কাছে।

 

অঞ্চলটিতে একটি বন্দর রয়েছে। যদিও এটি মূলত দেশীয় পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় এবং বন্দর আকারেও ছোট। বন্দরটি গভীর সমুদ্র বন্দর হিসেবে পুনর্নির্মিত হলে এর বার্ষিক ক্ষমতা দাঁড়াবে  ৭দশমিক ৮ মিলিয়ন টন কার্গো এবং ৪ দশমিক ৯ মিলিয়ন টিইইউ।

 

এই বন্দরটি চীনের বেল্প অ্যান্ড রোড উদ্যোগের সামুদ্রিক অবকাঠামোর জন্য কৌশলগভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, পাকিস্তানের গোয়াদর ও শ্রীলংকার কলম্বো বন্দরের সঙ্গে সম্পর্কিত হবে।

 

বন্দরটি পশ্চিমা দেশ থেকে পণ্য পরিবহনের জন্য চীনের  বিকল্প রুট হিসেবে কাজ করবে। এখন চীনকে তেল আমদানি করতে হয় বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত সমুদ্র পথ মালাকা প্রণালী দিয়ে। বন্দরটি হলে এই প্রণালী এড়িয়ে যেতে পারবে চীন।

 

 

 

তেল-গ্যাসের পাইপলাইন

 

থেলং মিয়ানমার-চীনা তেল ও গ্যাস পাইপ লাইন প্রকল্প বলে পরিচিত এই প্রকল্পটি ২ কোটি ৪৫ লাখ ডলারে নির্মিত হচ্ছে।  রাখাইনের উপকূল থেকে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইয়ুনান প্রদেশে পর্যন্ত ৭৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন। ২০১০ সালে এটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং চলতি বছরের এপ্রিলে তা চালু করা হয়।

 

পাইপলাইনটির ৫১ শতাংশ মালিকানা চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের এবং মিয়ানমারের অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজের ৪৯ শতাংশ। এই পাইপলাইন দিয়ে ২২ মিলিয়ন টন তেল পরিবহন করা হবে। বর্তর্মানে ১৩ মিলিয়ন টন তেল পরিবহন করা হচ্ছে। এছাড়া ১২ বিলিয়ন কিউবিক মিটার প্রাকৃতিক গ্যাসও বহন করা হবে এই পাইপ লাইন দিয়ে।

 

এসব তেল আমদানি করা হয় আরব দেশ থেকে। বঙ্গোপসাগর হয়ে জাহাজে এসব তেল-গ্যাস এসে পৌঁছায় কাইয়ুকফাইয়ুতে।

 

শিল্পাঞ্চল

 

রাখাইনে দ্বিতীয় বৃহত্তম যে উন্নয়ন প্রকল্প সিটিক কনসোর্টিয়াম দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে হচ্ছে শিল্পাঞ্চল। এটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ২.৩ বিলিয়ন ডলার। রয়টার্সের খবর অনুসারে, এই প্রকল্পের ৫১ শতাংশ মালিকানা সিটিক গ্রুপের। ২০১৬ সালের শুরুতে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়।

 

২০-৩০ বছরের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হতে পারে। ১০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে শিল্পাঞ্চলটি গঠিত হচ্ছে। প্রথম ধাপে কৃষি, ইকোট্যুরিজম এবং শিল্প-কারখানা স্থাপন করা হবে। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

এ জাতীয় আরও খবর