মঙ্গলবার, ১৩ই জুন, ২০১৭ ইং ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

হিট স্ট্রোকের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

AmaderBrahmanbaria.COM
মে ২৯, ২০১৭
news-image

---

স্বাস্থ্য ডেস্ক : শরীর যদি অনেক বেশি উত্তপ্ত হয় এবং বাইরের সাহায্য ছাড়া নিজে নিজে ঠান্ডা হতে না পারে তাহলে হিট স্ট্রোক হয়। আমেরিকান একাডেমী অফ ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান এর মতে, প্রতি বছর আমেরিকায় ২৪০ জনের মৃত্যু হয় হিট স্ট্রোকের কারণে। আমাদের দেশেও কয়েকদিন ধরে গরমের তীব্রতা বেড়েছে। তাই এই সময়ে হিট স্ট্রোক হতে পারে। হিট স্ট্রোকের কারণ, লক্ষণ ও নিরাময়ের বিষয়ে জেনে নিই চলুন।

কারণ ও লক্ষণ

হাইপারথার্মিয়ার একটি ধরন হচ্ছে হিট স্ট্রোক। তখন শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট (৪০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড) বা এর চেয়ে বেশি হতে পারে। ফিলাডেলফিয়া কলেজ অফ অষ্টিওপ্যাথিক মেডিসিন এর ইন্টারনাল মেডিসিন চিকিৎসক ডা. এরিক পোলেন বলেন, হিট স্ট্রোকে ভুগলে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়ার উপর প্রভাব পরে বাহিরের তাপের কারণে। ‘ডিহাইড্রেশন এবং অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে শরীরের অর্গান সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্থ হয়, যা প্রাণঘাতী হতে পারে’।

আমেরিকার ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমারজেন্সি মেডিসিন এর সহযোগী অধ্যাপক ডা. নেহা রাউকর ব্যাখ্যা করে বলেন, হিট স্ট্রোক দুই ধরনের হয়। এর একটি দেখা যায় বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে হিট ওয়েব এর সময়। একে ক্লাসিক্যাল হিট স্ট্রোক (CHS) বলে। অন্য ধরনের হিট স্ট্রোক দেখা যায় তরুণদের ক্ষেত্রে যারা গরম ও আর্দ্র পরিবেশে যায়। এ ধরনের হিট স্ট্রোককে এক্সারশনাল হিট স্ট্রোক (EHS) বলে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের বই মার্ক ম্যানুয়াল এর মতে, EHS হয় খুব দ্রুত এবং CHS হতে ২-৩ দিন সময় লাগতে পারে তাপের সংস্পর্শে আসার পর।

ইউ. এস. ন্যাশনাল লাইব্রেরী অফ মেডিসিন এর মতে, হিট স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণই হচ্ছে হিট ক্র্যাম্প হওয়া, যা সাধারণত পা ও পেটের পেশীতে হতে দেখা যায়। অন্য লক্ষণগুলো হচ্ছে, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরানো, দ্বিধা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, বমি বমিভাব, বমি হওয়া, সচেতনতা কমে যাওয়া এবং সাধারণত আক্রমণাত্মক আচরণ করতে দেখা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বক গরম, শুষ্ক বা লাল হতে পারে, হার্ট রেট বৃদ্ধি পায় এবং শ্বাসক্রিয়ায় পরিবর্তন দেখা যায়।

চিকিৎসা

হিট স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন ব্যক্তির দ্রুত চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন। তীব্র তাপের কারণে হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক, কিডনি এবং পেশী খুব দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। দীর্ঘ সময় যাবৎ এর চিকিৎসা করা না হলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে থাকবে।

নর্থ শোর ইউনিভার্সিটি হেলথ সিস্টেম নিউরোলজিকেল ইনস্টিটিউট এর সহ-পরিচালক এবং নিউরোসার্জারি বিভাগের পরিচালক ডা. জুলিয়ান বেইলস বলেন, ‘একজন নিউরোসার্জন হিসেবে EHS এর বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে আমি উৎসাহী অনুভব করি’। আমি দেখেছি, প্রায়ই মানুষ অতিরিক্ত তাপের লক্ষণগুলোকে উপেক্ষা করে এবং এ কারণেই তাদের সমস্যাটি জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ হয় যার কারণে জরুরী চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন। EHS অঙ্গের কাজের জন্য বা জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ।

চিকিৎসার প্রথমেই রোগীকে ঠান্ডা স্থানে নিয়ে যান। বাষ্পীভবনের মাধ্যমে তার শরীরকে ঠান্ডা করার চেষ্টা করুন। মায়ো ক্লিনিকের মতে, তাকে ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে রাখুন বা তার শরীরে বরফ দিন, বিশেষ করে তার ঘাড়, কুঁচকি, পিঠ এবং হাতের নীচে আইস প্যাক দিয়ে রাখুন, এতে তার শরীরের তাপমাত্রা কমবে। তার কাঁপুনি কমার জন্য, পেশীকে শিথিল করার জন্য ঔষধ দেয়া যেতে পারে। চিকিৎসার পরে রোগীকে ঠান্ডা আবহাওয়ায় থাকতে বলা হয়।

প্রতিরোধ

হিট স্ট্রোককে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। পোলেন বলেন, ‘হিট স্ট্রোকের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশুরা, যে বয়স্ক মানুষেরা একা থাকেন তারা, ক্রনিক রোগে ভোগেন যারা এবং বাইরে অনেক বেশি পরিশ্রমের কাজ করেন যারা তারা’।

গরম আবহাওয়ায় বাইরে কাজ করা বা ব্যায়াম করার ক্ষেত্রে ঢিলেঢালা পোশাক পড়ুন, হালকা রঙের পোশাক পড়ুন যাতে সহজেই বায়ু চলাচল করতে পারে। এছাড়াও বিরতি নিন, হাইড্রেটেড থাকুন এবং সাকাল ১০ টার পূর্বে ও দুপুর ৩ টার পরে বাইরে বের হোন।

কোন ঔষধ ও কোন উপাদানগুলো হিটস্ট্রোকের ক্ষেত্রে অবদান রাখে সে বিষয়ে জানাও জরুরী। আমেরিকান একাডেমী অফ ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান এর মতে, অ্যালকোহল, অ্যামফিটামিন, অ্যান্টিকোলিনারজিক, অ্যান্টিহিস্টামিন, বেঞ্জোডায়াজেপিন, বিটা ব্লকারস, ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকারস, কোকেইন, ডাইইউরেটিক, ল্যাক্সেটিভ, নিউরোল্যাপটিক্স, ফ্যানোথায়াজিন্স, থাইরয়েড অ্যাগোনিস্ট, ট্রাইসাইকেল অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ইত্যাদি ঔষধগুলো হিট স্ট্রোকের ক্ষেত্রে অবদান রাখে।

কখনো শিশুকে গরম গাড়িতে একা রেখে যাওয়া ঠিক নয় বলে জানান পোলেন। ১৯৯০ – ২০১৬ পর্যন্ত ৭৯৩ জন শিশু গরম গাড়িতে বসে থাকা অবস্থায় হিট স্ট্রোকে মারা যায়। মায়ো ক্লিনিকের মতে, যখন সূর্যের আলোয় গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় থাকে তখন ১০ মিনিটেই এর তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রী ফারেনহাইট বৃদ্ধি পেতে পারে।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স