g রেসিপিঃ গরুর গোশতের কালা ভূনা | AmaderBrahmanbaria.Com – আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া

শুক্রবার, ২৫শে আগস্ট, ২০১৭ ইং ১০ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

রেসিপিঃ গরুর গোশতের কালা ভূনা

AmaderBrahmanbaria.COM
জুন ১৩, ২০১৪

---

k11

সাহাদাত উদরাজী:

কালাভূনার নাম কে না জানেন। নানান হোটেলে খাবার অভিজ্ঞতায় আমিও এক সময় কালাভূনা চিনে যাই। দিনের পর দিন কালা ভুনা আমাদের দেশে জেঁকে বসছে বলে আমার মনে হয়। এখন ঢাকার প্রায় সব হোটেলে এই কালা ভুনার রান্না হয়। সাধারন গরুর গোশতর পাশাপাশি কালা ভূনা থাকেই থাকে। আমাদের বাসার কাছের আবুল হোটেলেও কানা ভূনা পাওয়া যায়! পুরান ঢাকার অনেক হোটেলতো এখন কানা ভূনা রান্নায় বিশেষ নাম কিনে ফেলেছে।

আসলে কালা ভুনা নিয়ে কথা বলতে গেলে রাত পেরিয়ে ভোর হয়ে যাবে! এই কালা ভূনা নাকি চট্রগ্রামের খাবার, এটা নাকি চট্রগ্রামে বেশী জনপ্রিয়। চট্রগ্রামে বিবাহ শাদী থেকে সাধারন মেজবানেও এই কালা ভূনা করা হয়। আবার এই কালা ভূনার বিশেষ বাবুর্চী গ্রুপও আছে সেখানে! তারা অনেকে আবার বিদেশে যেয়েও নাকি এই কালা ভূনা রান্না করে আসেন। যাক, আমাদের খুশি হবার অনেক কারনে আছে। তবে আজ নেটে ঘাঁটাঘাঁটি করতে দেখলাম, এই কালা ভূনা নাকি ইরানী খাবার!

যাই হোক, কালা ভূনা নিয়ে কয়েকদিন ভাবছিলাম। নেট ঘেঁটে খুব সহজ একটা রেসিপি পেয়ে যাই। দুই তিন লাইনের রেসিপি, নিউজ পেপারের একটা কলামে। আমার কাছে বেশ ভাল লাগল। বলতে গেলে বাসায় সব কিছুই আছে আমার নিজের তেমন খরচ নাই। শুধু একটু তাড়াতাড়ি বাসায় গেলেই চলে। যেই কথা সেই কাজ।

চলুন, কালা ভূনা রান্না দেখি। আমার কাছে খুব সহজ মনে হয়েছে।

উপকরনঃ
– পনে এক কেজি হাড় ছাড়া গরুর মাংস (কিউব সাইজে কাটলে ভাল দেখাবে)
– মরিচ গুড়া (ঝাল বুঝে) হাফ চামচ বা তার বেশী
– হলুদ গুড়া এক চামচ
– জিরা গুড়া হাফ চামচ
– ধনিয়া গুড়া হাফ চামচ
– এক চাচম পেঁয়াজ বাটা
– দুই চামচ রসুন বাটা
– হাফ চামচ আদা বাটা
– গরম মশলা (সামান্য দারুচিনি, কয়েকটা এলাচি)
– হাফ কাপ পেঁয়াজ কুঁচি (এটা পরে ব্যবহার করা হবে)
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ
– পরিমান মত লবন
– তেল (সরিষার তেল হলে নাকি আরো ভাল হয়)

* স্বাদ বাড়াতে আরো অনেক মশলা ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রনালীঃ

মাংস কেটে ধুয়ে পেঁয়াজ কুঁচি এবং কাঁচা মরিচ রেখে সব মশলা ও লবন তেল দিয়ে ভাল করে মাখিয়ে নিতে হবে।


এবার মাখানো মাংস হালকা আঁচে চুলায় তুলে দিতে হবে।


কিছুক্ষন পর দুই কাপ পানি দিয়ে আবারো ঢাকনা দিয়ে দিন। মাংস সিদ্ব হতে সময় লাগবে। যদি মাংস না নরম হলে তবে আবারো গরম পানি দিয়ে ঝোল বাড়িয়ে সিদ্ব করতে পারেন।


মাংস নরম হবে ও ঝোল শুকিয়ে যাবে।


মাংস অনেকটা এমন হয়ে যাবে। এবার মাংস সরিয়ে রাখুন।


অন্য একটা কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুঁচি ও কয়েকটা কাঁচা মরিচ ভাঁজতে থাকুন, সোনালী রং নেমে আসবে।


এবার সেই কড়াইতে গরুর মাংস দিয়ে ভাঁজতে থাকুন। হালকা আঁচে।


খুন্তি দিয়ে ভাল করে নাড়ুন,  পুড়ে যাবে না কিন্তু ভাজিতে রং কালো হতে থাকবে। এই সময় চুলা ছেড়ে যাবেন না। কাছেই থাকুন এবং নাড়ান।


ফাইন্যাল লবণ দেখুন। লাগলে ছিটিয়ে দিন, না লাগলে ওকে বলুন।


এই নিন কালা ভূনা, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। দেখুন কত সহজ! তবে সময় অন্য রান্নার তুলনায় একটু বেশী লাগবে, কথা সত্য।


কালা ভুনার স্বাদ আরো বেড়ে যাবে যদি খাঁটি সরিষার তেল ব্যবহার করেন, কথাটা আমার না প্রত্রিকায় পড়া একজন প্রফেশন্যাল বাবুর্চি ভাইয়ের কথা।

আমি অপেক্ষায় আছি যদি সরিষার তেল পাই তবে আবারো কালা ভূনা রান্না করব। 

এ জাতীয় আরও খবর