বৃহস্পতিবার, ১৩ই জুলাই, ২০১৭ ইং ২৯শে আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

কার্বলিক অ্যাসিডে আসলেই কি সাপ পালায়?

AmaderBrahmanbaria.COM
জুলাই ১২, ২০১৭
news-image

---

রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহী অঞ্চলে হঠাৎ বেড়েছে বিষধর সাপের বংশ বিস্তার। গত কয়েক বছর ধরে বিষাক্ত রাসেল ভাইপারের সন্ধান পাওয়ার পর এবার মিলছে বিষধর গোখরা।

গত সপ্তাহে রাজশাহী নগরী, তানোর ও দুর্গাপুরে অন্তত ২০০’র বেশী গোখরার বাচ্চা মেরে ফেলা হয়েছে। এরমধ্যে নগরীর এক বাড়িতে ২৮টি, তানোরে ১২৫টি ও দুর্গাপুরে আরো অন্তত ৪৫টি গোখরার বাচ্চা মেরে ফেলা হয়।

এদিকে, বাড়িঘরে সাপের আনাগোনা থেকে পরিত্রান পেতে মানুষ বাজার থেকে কার্বলিক অ্যাসিড কিনে এনে বাড়ির চারপাশে ছিঁটিয়ে রাখছে। অনেকের ধারনা অ্যাসিডের ঝাঁঝালো গন্ধ সাপ সহ্য করতে পারে না। সে কারণে যে বাড়িতে কার্বনিক অ্যাসিড থাকে সেখানে সাপ আসে না। আসলে ধারনাটা সম্পূর্ণ ভুল।

প্রাণি বিশেষজ্ঞ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রাণি বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস এমন তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, কার্বলিক অ্যাসিড সাপের উপরের কোন প্রতিক্রিয়াই সৃষ্টি করতে পারে না। এ ধরনের গবেষণায় দেখা গেছে যে, সাপের কাছে কার্বলিক অ্যাসিডের বোতল রেখে দিলে দেখা যায় যে সাপ ওই বোতল পেঁচিয়ে বসে আছে। কার্বলিক অ্যাসিডের গন্ধে সাপের কিছুই যায় আসে না।

যারা বাড়ির আশেপাশে সাপের আনাগোণা দেখে কার্বলিক অ্যাসিড ছিঁটিয়ে নিশ্চিন্তে বসে থাকেন তারা আরো বেশি ভুল করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে, সাপের উৎপাত থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় হিসেবে তিনি বলেছেন যে, নিজেদের বাসস্থলের আশেপাশে যতোটা সম্ভব পরিস্কার রাখতে হবে। বাড়ির আশেপাশে যদি কোন গর্ত থাকে তাহলে তা ভরাট করতে হবে। এ কাজের মাধ্যমেই যতোটা সম্ভব সাপের উৎপাত থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।

প্রাণি বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস আরো জানান, বর্ষা মৌসুমে নদী-নালা ভরে যায়। মাঠে জমে থাকে পানি। পানি থেকে রক্ষা পেতে গ্রাম বা শহরে বাড়ির আসপাশে ঝোপ জঙ্গলে আশ্রয় নেন সাপ। সাপ নিজে গর্ত খুঁড়তে পারে না। তারা নিরাপদ আশ্রয় বলতে খোঁজে বাসা-বাড়িতে থাকা ইঁদুরের গর্ত। ইঁদুরের গর্তে তারা থাকতে পছন্দ করে।

তিনি আরো বলেন, সাপের প্রজনন কাল এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত। এর মধ্যে তারা ডিম পাড়ে। একটি সাপ ৩০ থেকে ৩৫টি ডিম পাড়তে পারে। প্রায় ৪০ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে বাচ্চা ফোটায়। সাপের বাচ্চা ফোটাতে ডিমের উপর মা সাপ বেঁড়ি পাকিয়ে বসে থাকে। অনেক সময় মা সাপ ডিম পেড়ে চলে গেলেও মাটির মধ্যে একটু উষ্ণতা পেলে এমনিতেই ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।

বাচ্চা ফোটার পরে সাধারণত ৫ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত মা সাপ তাদের বাচ্চাদের সঙ্গে থাকে। এরপরে তারা চলে যায়। বর্ষা কালে সাপের দেখা বেশি মেলে। তাই বিশেষ করে বাড়ি পানি বের করার যে নালা থাকে সেটিকে বর্ষার সময় নেট জাল দিয়ে ঘিরে রাখতে হবে। তারা নালা দিয়ে মাঠ-ঘাট দিয়ে উঠে আসে। বিশেষ করে মাটির ঘরে ইঁদুরের গর্ত সাপের পছন্দের আবাসস্থল। তাই ঘরের ভেতরে থাকা আলমারি, খাটসহ আসবাবপত্র ভালভাবে দেখতে হবে। যাতে সেগুলোর ভেতরে ইঁদুরের গর্ত না থাকে।

যদি থাকে সেগুলো তাড়াতাড়ি বন্ধ করে ফেলতে হবে। যাদের বাড়িতে মাটির বা পাকা ড্রেন আছে সেসব জায়গায় সাপ থাকার শঙ্কা আরো বেড়ে যায়। বাড়ির কোন জায়গায় যদি খড়ি বা খড় স্তুপ করে রাখা হয় তাহলে সেগুলোও সরিয়ে ফেলতে হবে।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য সাপ অপরিহার্য প্রাণি। তাই এতে আতঙ্কিত না হয়ে সাপের উৎপাত থেকে বাঁচতে কৌশলী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এ জাতীয় আরও খবর