শনিবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

প্রধান বিচারপতিকে এক হাত নিলেন আইনমন্ত্রী

anisul-haqueসংসদ প্রতিবেদক : প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বক্তব্যের বিরোধিতা করে জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, অবসরে যাওয়ার পর কোনো বিচারপতির রায় লেখা অসাংবিধানিক হতে পারে না। এমন কোন কথা আমাদের সংবিধানে লেখা নেই। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি ইচ্ছে করলেই যা তা বলতে পারেন না।
মঙ্গলবার সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্যরা সংসদে যা আলোচনা করেছেন তা যথার্থ। আমাদের যে সংবিধান, তার কোনো আর্টিকেলে লেখানাই যে, বিচারপতি অবসরে যাওয়ার পর তিনি রায় লিখতে পারবেন না। সেটাই যদি হয়, তাহলে তা অসাংবিধানিক হতে পারেনা। যা কিছু হোক, আইনের ভাষায় অসাংবিধানিক নয়।
তিনি আরো বলেন, হাইকোর্ট ডিভিশনের যে রায় মাননীয় বিচারপতিরা লেখেন তা এজলাসে বসেই দেওয়ার কথা। কিন্তু যদি এমন হয়, মামলা জটের কারণে রায়টা তারা শেষ করতে পারছেন না, তাহলে এজলাসের বাইরে রায় লেখার অধিকার তারা রাখেন।
মন্ত্রী বলেন, আপিল বিভাগেও এ কথা লেখানাই, রায় দিতে হবে এজলাসে। আপিল বিভাগে পরিষ্কার করে লেখা আছে, রায় দিতে হবে কোর্টে। সেখানেও কিন্তু কোথায় লেখা নেই, অবসরের পর রায় লেখা যাবে না। তাই অবসরের পর রায় লেখা অবৈধ নয়।
প্রধান বিচারপতির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তিনি বিচার বিভাগের প্রধান। তার কিছু সমস্যা আছে সেটা আমরাও জানি। কোনো বিচারপতি রায় অনেক দেরি করে লেখেন। যদি রায় দেরি করে লেখেন তাহলে জনগণ ভোগান্তিতে পড়েন। জনগণ চায় তাদের রায় দ্রুত হাতে পেতে। আমরাও দেখেছি রায় অনেক দেরি করে লেখা হচ্ছে। এটা যদি তিনি দূর করতে চান তাহলে প্রধান বিচারপতি একটা প্র্যাকটিস ডিরেকশন দিতে পারেন। সেই প্র্যাকটিস ডিরেকশনে উল্লেখ করতে পারেন, অবসরে যাওয়ার তিন মাস বা চার মাস পর বা একটা টাইম ফ্রেম দিতে পারেন।
প্রসঙ্গত, প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিজের দায়িত্ব নেওয়ার এক বছর পূর্তিতে গত ১৭ জানুয়ারি এক বাণীতে বিচারপতি এস কে সিনহা বলেন, অবসরে যাওয়ার পর বিচারকদের রায় লেখা ‘সংবিধান পরিপন্থি’।
তার ওই বক্তব্য আসার পর থেকে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তার ভিত্তিতে বিএনপি বলছে, অবসরের পরে লেখা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের রায়ও তাহলে অবৈধ।