সোমবার, ২১শে মে, ২০১৮ ইং ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নামাজ আদায়ের নিয়ম ও দোয়া (ভিডিও)

news-image

ইসলামিক ডেস্ক নবী মুহাম্মদ সা. বলেছেন ‘নামাজ মুমিনের জন্য মেরাজ স্বরূপ’। নামাজের মাধ্যমে মুমিন আল্লাহ’র সঙ্গে কথা বলে। হুজুর সা. মেরাজে যেয়ে উম্মতের জন্য নামাজকে উপহার স্বরূপ নিয়ে এসেছেন। তারপর থেকেই পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাজ প্রত্যেক মুসলিম নর নারীর জন্য ফযর করা হয়েছে। অত:এব নামাজের সঠিক নিয়ম জেনে নামাজ আদায় আমাদের জন্য আবশ্যক। আমাদেরসময়ডটকম পাঠকদের জন্য নামাজের সঠিক নিয়ম ও ওয়াজিব দোয়াগুলো তুলে ধরা হল
 পাঠ ১
নামাজের জন্য কেবলামুখী হওয়া : নামাজি ব্যক্তি অবশ্যই কেবলামুখী হয়ে দাঁড়াবে এবং নামাজের নিয়ত করে নেবে। তবে নিয়ত মুখে উচ্চারণ করার প্রয়োজন নেই। কারণ নবী কারীম সা. এবং তাঁর সাহাবাদের কেউ মুখে নিয়ত উচ্চারণ করেননি। বাংলাতে নিয়ত করলেও যথেষ্ট হবে।
পাঠ ২
তাকবীরে বলা ও হাত উত্তলন : নামাজে দৃষ্টিকে সিজদার স্থানে নিবদ্ধ রেখে আল্লাহু আকবার  বলে তাকবীরে তাহরীমা বলবে। তাকবীর বলা ফরয। তাকবীর ছেড়ে দিলে নামাজ হবে না। তাকবীরে তাহরীমার সময় উভয় হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠাবে এবং উভয় তালু কিবলামুখি করে রাখবে।
তবে মহিলাদের ক্ষেতে উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাবে।
পাঠ ৩
হাত বাঁধা : পুরুষ উভয় হাত নাভির ঠিক নিচে রেখে ডান হাতের বৃদ্ধা এবং কনিষ্ঠাংগুল দ্বারা বাম হাতের কব্জি ধরে ডান হাতের মধ্যের তিন আঙ্গুল বাম হাতের পিঠের উপর থাকবে। মহিলারা বুকের উপর বামহাত রেখে হালকাভাবে ডান হাত দ্বারা ধরবে।
পাঠ ৪
সানা, সূরা ফাতিহা ও সূরা মিলানো : হাত বাঁধার পর সানা পড়তে হয়। সানা পড়া সুন্নত। সানা : ‘সোবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাস্মুকা, ওয়া তা’আলা জাদ্দুকা ওয়া লা-ইলাহা গাইরুকা’। সানা পড়ার পর আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ্ পড়া সুন্নাত। তারপর সূরা ফাতিহা পড়বে। সূরা ফাতিহা পড়া ওয়াজিব। সূরা ফাতিহা পড়া শেষে অপর একটি সূরা মিলিয়ে পড়বে। ফাতেহার পর সূরা মিলানো ওয়াজিব।
পাঠ ৫
রুকু : উভয় হাত দু’কাঁধ অথবা কান বরাবর উঠিয়ে আল্লাহু আকবার বলে রুকূতে যাবে। মাথাকে পিঠ বরাবর রাখবে এবং উভয় হাতের আঙ্গুলগুলো খোলা অবস্থায় উভয় হাঁটুর উপরে রাখবে। রুকূতে স্থিরতা অবলম্বন করবে এবং চোখের দৃষ্টি দুই পায়ের মধ্যভাগে রাখবে। রুকুতে এ দোয়াটি কমপক্ষে তিনবার পড়বে ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজীম’। রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো ওয়াজিব। দাঁড়ানোর সময় ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলা এবং তারপর ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ বলা সুন্নত।
পাঠ ৬
সিজদাহ : সিজদাতে যাওয়ার সময় ‘আল্লাহু আকবর’ বলা সুন্নাত। তারপর দুই সিজদাহ করা ফরজ। সিজদার সময় হাত ও পায়ের আঙ্গুলগুলো কিবলামুখী থাকবে এবং হাতের আঙ্গুলগুলো মিলিত রাখবে। সেজদাহ অবস্থায় চোখের দৃষ্টি নাকের দিকে নিবদ্ধ রাখা এবং হাতের আঙ্গুলগুলো মিশিয়ে রাখবে। সিজদাহ্ হবে সাতটি অঙ্গের উপর। অঙ্গগুলো হলোÑ নাকসহ কপাল, উভয় হাতুলী, উভয় হাঁটু এবং উভয় পায়ের আঙ্গুলের ভিতরের অংশ। সেজদায় নারীরা শরীর একেবারে মিশিয়ে সেজদাহ করবে। সেজদায় এ দোয়াটি পড়বেÑ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা’।
 পাঠ ৭
সেজদা থেকে উঠা : সেজদা থেকে উঠার সময় সর্বপ্রথম কপাল তারপর নাক তারপর হাত উঠবে। ‘আল্লাহু আকবার’ বলে সিজদা থেকে মাথা উঠাবে। বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর বসবে এবং ডান পা খাড়া করে রাখবে। দু’হাত তার উভয় রান (উরু) ও হাঁটুর উপর রাখবে।
দ্বিতীয় সেজদা : ‘আল্লাহু আকবার’  বলে দ্বিতীয় সিজদাহ করবে এবং দ্বিতীয় সিজদায় তাই করবে প্রথম সিজদায় যা করেছিল।
সেজদাহ শেষ করে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আবার প্রথম রাকাতের মত ২য় রাকাতের সিজদা পর্যন্ত হুবহু একই কাজ করবে।
পাঠ ৮
বৈঠক : ২য় রাকাতের সিজদাহ থেকে আল্লাহু আকবার বলে মাথা উঠাবে। ক্ষণিকের জন্য বসবে, যেভাবে উভয় সিজদার মধ্যবর্তী সময়ে বসেছিল। তারপর আত্তাহিয়্যাতু পড়া ওয়াজিব। দোয়াটির উচ্চারণ : ‘আত্যাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওস্সলাওয়াতু ওয়াত্তয়্যেবাতু আসসালামুআলাইকা আয়্যুহান্নাবিয়্যু ওরাহমাতুল্লাহি ওবারাকাতুহু আসসালামু আলাইনা ওয়া’লা ঈবাদিল্লাহি সসলিহিনা আশহাদুআল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়ারাসূলুহ’। যদি দুই রাকাত বিশিষ্ট নামাজ হয় তবে আত্তাহিয়্যাতুর পর দুরূদ শরীফ পড়া এবং তারপর দোয়ায়ে মাসুরা পড়া সুন্নত। বসা অবস্থায় চোখের দৃষ্টি হাতের উপর রাখা এবং আঙ্গুলগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় রাখা ও বাম পায়ের উপর বসে ডান পা খাড়া রেখে আঙ্গুলগুলো ভাজ করে কিবলামুখী করে রাখবে।
নারীরা বসার ক্ষেত্রে নিতম্বের উপর বসবে এবং উভয় পা ডান দিকে বের করে দেবে।
তিন বা চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজ হলে আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর দাঁড়িয়ে বাকি রাকাতগুলো আদায় করবে।
পাঠ ৯
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহু’  বলে প্রথমে ডান দিকে পরে বাম দিকে সালাম ফিরাবে। সালাম ফিরানো ওয়াজিব।
তারপর দুরুদ শরীফ ও ইস্তেগফার পাঠ করে মুনাজাত করবে, মুনাজাত করা নামাযের অংশ নয়।

Print Friendly, PDF & Email