g ব্রাহ্মনবাড়িয়া রেলষ্টেশনে টিকেট কালোবাজরীর দৌরাত্ম চরমে | AmaderBrahmanbaria.Com – আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া

বুধবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৭ ইং ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মনবাড়িয়া রেলষ্টেশনে টিকেট কালোবাজরীর দৌরাত্ম চরমে

AmaderBrahmanbaria.COM
মার্চ ২৩, ২০১৭

---

তৌহিদুর রহমান নিটল : ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলষ্টেশন টিকেট কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করেছে। এতে সাধারন মানুষ ভোগান্তি বাড়ছে। শহরের রেলষ্টেশন কালোবাজারী ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। মাঝে-মাঝে প্রশাসন টিকেট কালোবাজারি প্রতিরোধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে। কিন্তু তাতে ও কাজ হচ্ছে না। রেল ভ্রমনকারীরা তেমন কোন সুফল পাচ্ছে না। সকাল থেকে দুপুর তারপর সন্ধ্যা পর্যন্ত কালোবাজারি প্রকাশ্যে রেলষ্টেশনের টিকেট কাউন্টারের সামনে মূল ফটকটি দখল করে রাখছে। প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনের সময়ের আধা ঘন্টা আগ মূহূর্ত থেকে হাতে ২০/৩০টি টিকেট নিয়ে প্রতিটি কালোবাজারিরা বেশ দাপটের সাথেই রেলওয়ে নিরাপওা বাহিনী (জিআরপি) পুলিশদের সামনে টিকেট কালোবাজারিরা ঢাকা গামী আন্তঃনগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট সরকারি ভাবে নির্ধারিত ১২০ টাকার টিকেট সর্ব্বোচ্চ ২৫০ টাকায় বিক্রি করছে। আন্তনগর মহানগর গৌধূলী, পারাবত ও তৃণনিশতার ট্রেনের সরকারি ভাবে নির্ধারিত ১৪৫ টাকার মূল্যের টিকেট সর্ব্বোচ্চ ৩০০/৩৫০ টাকা আদায় করা হয়। সময় ও দিনক্ষণ বুঝে এ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। এ ছাড়া চট্রগ্রাম গামী আন্তনগর মহানগর প্রভাতি, মহানগর এক্সপ্রেস ও তৃণনিশিতা ট্রেনের টিকেট সরকারি ভাবে নির্ধারণ করা ২৩০ টাকার টিকেট কালোবাজারিরা বিক্রি করছে ৪৫০/ ৫০০ টাকা। ভুক্ত ভূগী যাত্রীরা মনে করছে, যারা সরকারি ভাবে ষ্ট্রেশনটি নিরাপওা কাজে এসব দেখ ভালের দায়িত্বে আছেন তাদের সহযোগিতায় টিকেট কালোবাজারিরা দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে যাত্রীদের পকেট কেটে ডাকাতি করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক টিকেট কালোবাজারি জানায়, প্রতিটি আন্ত:নগর ট্রেনের টিকেট আমরা এক সপ্তাহ থেকে পর্যায় ক্রমে দশদিন আগে টিকেট কাউন্টার থেকে নিয়ে থাকি। আর এই কাজের জন্য ষ্টেশনের টিকেট কাউন্টারে থাকায় ( বুকিং সহকারি )আমাদের সহযোগিতা করে থাকেন এর জন্য তাদের প্রতিটি আন্তনগর ট্রেনের টিকেটের জন্য ৩০/ ৫০ টাকার পর্যন্ত ক্ষেত্র বিশেষে দিয়ে থাকি। তারা গড়ে প্রতিদিন ১০০/১৫০ টিকেট আমাদের হাতে পৌছে দেয়। এ টাকার ভাগ সবাই পেয়ে থাকে। আর ষ্টেশনের বড় কর্তারা নিচের কর্মচারীদের চেয়ে টাকার ভাগের অংশ বেশি পেয়ে থাকেন। তার মতে, ষ্টেশনের টিকেট কালোবাজারি কেউ বন্ধ করতে পারবে না। প্রতি মাসে এখানে আন্ডার গ্রাইন্ডে লাখ-লাখ টাকার খেলা হচ্ছে। টিকেট কালোবাজারি আরেকটি সূত্র জানায়, ট্রেনের দায়িত্বরত কর্তাদের সাথে চিহ্রিত এক ধরনের কালোবাজারি আন্ত:নগর ঢাকা ও চট্রগ্রামগামী কেবিনে বসিয়ে টিকেট কালোবাজারি করছে। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকাগ্রামী আন্ত: নগর ট্রেনগুলোর কেবিন বসিয়ে ৩২০ টাকা যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করছে। ট্রেনে যে কটি কেবিন কক্ষ আছে তাতে দু-এক জন করে বেশি বসিয়ে নিচ্ছেন। মাঝ পথে নরসিংদী থেকে ৬৫ টাকার দিয়ে (ষ্ট্রেনডিং) টিকেট নিয়ে যাএীদের হাতে পৌছেঁ দিচ্ছে। আর এ কাজে (টিকেট পরীক্ষাকারী প্রত্যক্ষ জড়িত। যাএীরা বিমানবন্দর ও কমলাপুর ষ্ট্রেশন দিয়ে এই (ষ্ট্রেনডিং) টিকেট দিয়ে গেইট পাড় হচ্ছে। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া দুই-তিনজন টিকেট কালোবাজারি ট্রেন আসার আগে ট্রেনের (টিটি) সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে যাএী ঠিক করে রাখছে। ষ্টেশনে ট্রেন আসা মাএই তাদের হাতে সে সব কেবিনের যাএীদের ধরিয়ে দিচ্ছে। রেলষ্টেশন সূএে জানা যায়, সরকারি ভাবে (বুকিং সহকারি) হিসাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া দায়িত্বে আছেন, কামরুজ্জামান, রনি, মামুন, দিদার, শাহিন ও সালমা।
সরেজমিনে কথা হয় ষ্ট্রেশনে টিকেট নিতে আসা আব্দুল হামিদ, সুমন ও রোকেয়া বেগমের সাথে তারা জানায়, আমাদের আগের বরাদ্দের টিকেটের অর্ধেক টিকেট কমিয়ে নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। আবার যে টিকেট বরাদ্দ আছে তার চার ভাগের তিন ভাগই চলে যাচ্ছে টিকেট কালোবাজারিদের হাতে। এক সপ্তাহ পরের টিকেট ও কাউন্টারে নাই বলছে কতৃপক্ষ অথচ দেখেন প্রকাশ্যে অর্থাৎ ষ্ট্রেশন এই সব অনিয়ম দেখার জন্য নিরাপওার দায়িত্বে থাকা (জিআরপি)পুলিশের সামনে তারা হাত ভরা টিকেট তিনগুণ বেশি দামে যাএীদের কাছে বিক্রি করছে। অসহায় যাএী আমরা বার্ধ্য হয়ে তাদের কাছ থেকে টিকেট নিতে হচ্ছে। তারা বলেন “রক্ষণ যেখানে ভক্ষক” সেখানে কি আর করার আছে। এ নিয়ে কথা হয় আখাউড়া রেলওয়ে সহকারি পুলিশ সুপার পারভেজ আলম এর সাথে। তিনি জানান, আমি ব্রাহ্মণবাড়পয়া রেল ষ্ট্রেশন টিকেট কালোবাজারি বিষয়টি সেখানে দায়িত্বরত ফাড়িরঁ অফিসারের কাছে কারা জড়িত তাদের নামের তালিকা চেয়েছি। আমি নিজে গিয়েছিলাম আগামী দুই তিনদিনের সরাসরি স্থানীয় থানার সহযোগিতা নিয়ে অপারেশন করব।

 

 

এ জাতীয় আরও খবর