g সংসদে প্রধানমন্ত্রী ভ্যাট মেনে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো | AmaderBrahmanbaria.Com – আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া

শনিবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৭ ইং ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

সংসদে প্রধানমন্ত্রী ভ্যাট মেনে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

AmaderBrahmanbaria.COM
সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৫
news-image

---

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাট আরোপের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভ্যাট তো শিক্ষার্থীদের দিতে হবে না। এটা দেবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এটা তারা মেনেও নিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দশম জাতীয় সংসদের সপ্তম অধিবেশনের সমাপনী দিনে তিনি এ কথা বলেন।01_267280

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য শর্ত মানা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কিছু শর্ত মেনে নিয়েই অনুমতি নিয়েছে। কিন্তু এখন দেখি একটি ভবনেই দুই-তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়! এগুলো বিশ্ববিদ্যালয় হয় কিভাবে? তিনি বলেন, ‘আর বাংলাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা যত কম খরচে পড়াশোনা করতে পারছে, বিশ্বের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এত কম খরচে কেউ পড়াশোনা করতে পারে না। কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন এ ক্ষেত্রে কোনো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নেই। তবে আমরা প্রতি জেলায় একটি করে সরকারি কিংবা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ দেশের চলমান উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে এগিয়ে নিতে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সততা-নিষ্ঠাই আমার বড় শক্তি, আর জনগণের আস্থা-বিশ্বাস ও ভালোবাসা আমার সম্পদ। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি বলেই দেশি-বিদেশি সকল চাপ ও বাধা উপেক্ষা করেই আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। সবাইকে মনে রাখতে হবে- একজন রাজনীতিবিদের জনগণের আস্থা-বিশ্বাস ও ভালোবাসা অর্জনের চেয়ে আর কোনো বড় সম্পদ থাকতে পারে না।’
ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি সম্পর্কে বলেন, একসঙ্গে এত বেতন বৃদ্ধি অতীতে কোনো সরকার করতে পারেনি। নিচের পর্যায়ে এক শ ভাগেরও বেশি বৃদ্ধি করেছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কোনো দিন এত বেতন বৃদ্ধি কখনো হয়নি।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এত বেতন বৃদ্ধি করার পরও দেখছি কেউ কেউ অসন্তোষ প্রকাশ করছে। এর সমাধান কিভাবে হবে? একটা হতে পারে, আমরা যে বেতন কমিশন গঠন করেছি তা বন্ধ করে দেওয়া। নয়তো বেতন বৃদ্ধির হার অর্ধেক করে ফেলা।’ তিনি বলেন, ‘আমরাই প্রথম বেতন-ভাতা বৃদ্ধিকে একটি সিস্টেমের মধ্যে এনেছি। এখন থেকে প্রতিবছর নির্দিষ্ট হারে সবার বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পাবে।’ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করে সংসদের সপ্তম অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় এ সংক্ষিপ্ত অধিবেশন গত ১ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছিল। অধিবেশন হয়েছে মাত্র আট দিন। সমাপনী অধিবেশনে বক্তব্য দেন বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদও।
সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এ অধিবেশন অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হলেও প্রাণবন্ত ছিল। এবার বিরোধী দলের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গঠনমূলক। এখানে অতীতের মতো কোনো খিস্তিখেউর, গলাবাজি কিংবা গালিগালাজ ছিল না। এটাই হচ্ছে সত্যিকারের সংসদীয় গণতন্ত্রের নমুনা। তিনি বলেন, যাঁরা বলেন সংসদে বিরোধী দল নেই, আসলে তাঁরা পরচর্চা, গালমন্দ ও খিস্তিখেউরই পছন্দ করেন। ভদ্র পরিবেশে সংসদ চলুক, এটা তাঁরা চান না।
সংসদ নেতা বলেন, ‘সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমি জনকল্যাণে কাজ করি বলেই পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের চাপ ও মিথ্যা অপবাদ এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর না করতে বিশ্বের অনেক বড় নেতার ফোনও অগ্রাহ্য করতে পেরেছি। আর এটা করতে পেরেছি আমি সততা নিয়ে চলি বলেই।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে চলতে চাই। আমরা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। ইনশাআল্লাহ নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আমরা দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে পারব।’
সরকারের চলমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড যাতে দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয় সে জন্য সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সরকারের আর তিন বছর তিন মাস সময় রয়েছে। তবে তিন মাস সময় যাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে। বাকি তিন বছরে প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে সততা ও নিষ্ঠা নিয়ে নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নকাজ এগিয়ে নিতে হবে। কেবল সংসদ সদস্যই নয়, সব জনপ্রতিনিধিকে চলমান উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে এগিয়ে নিতে হবে।

এ জাতীয় আরও খবর