বুধবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং ৯ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জানেন কি, অবাক করা এই ১০টি বিষাক্ত খাবার সম্পর্কে!

ডেস্ক রিপোর্ট।। এমন কিছু খাবার আছে যা আমরা প্রতিনিয়ত খাই। কিন্তু অনেক সময় এ খাবারগুলো মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তবে একটু সচেতন হলে তা পরিহার করা সম্ভব। নিম্নে আপনাদের সুবিধার্থে এরকম ১০ টি খাবারের নাম উল্লেখ করা হল।

বন্য মাশরুম : মাশরুম অনেকেরই পছন্দের খাবার, বেশ উপাদেয়। ছোটবেলায় আমরা বনে জঙ্গলে বিভিন্ন জায়গায় ব্যাঙের ছাতা গজিয়ে উঠতে দেখতাম, বড় হয়ে জেনেছি এগুলোকে মাশরুম বলে। তাই বলে, মাশরুম ভেবে ব্যাঙের ছাতা যেন খেতে যাবেন না ভুলেও। ব্যাঙের ছাতা আর মাশরুম সমার্থক হলেও, কিছুটা ভিন্নতা কিন্তু রয়েই গেছে। ব্যাঙের ছাতা বলতে আমরা যে বন্য মাশরুমকে বুঝি, তা কিন্তু উপাদেয় নয়। কিছু বন্য মাশরুম তো খুবই ক্ষতিকর। ক্ষেত্রবিশেষে মৃত্যুর কারণও হতে পারে। বন্য মাশরুম মানুষের শরীরে অভ্যন্তরীণ ব্যথা বেদনার সৃষ্টি করতে পারে, বমির উদ্রেক করতে পারে, এমনকি হার্ট, লিভার এবং কিডনি নষ্ট করে দিতে পারে। শুধু মাশরুমই নয় যে কোনও বন্য কিছু খাবার আগে বিশেষ ধরণের সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে।

আপেল : প্রবাদে আছে প্রতিদিন একটি আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না। আপেলে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে এবং আমাদের শরীর ভাল রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু আপেলের বিচিতে হাইড্রোজেন সায়ানাইড নামক বিষ থাকে। তাই অধিক পরিমাণ বিচি খেয়ে ফেললে বিপদ হতে পারে।

বিষাক্ত ব্যাঙের ছাতা : সারা পৃথিবীতেই ব্যাঙের ছাতা খাওয়ার চল আছে। কিন্তু সব ধরনের ছাতা খাওয়া যায় না। অনেক ব্যাঙের ছাতাই হয় বিষাক্ত। ‘আমানিতা ফ্যালোয়ডেস’ তেমনই একপ্রকার ছত্রাক। কেউ কেউ যাকে ‘মৃত্যু ছত্রাক’ও বলেন। ঠিকমতো রান্না না করে এই ছত্রাক খেলে মৃত্যুও হতে পারে। কিডনি এবং লিভার নষ্ট করে দেয় এই ছত্রাক।

কাজুবাদাম : মিষ্টি কাজুবাদাম ও তেতো কাজুবাদাম এই দুই ধরণের কাজুবাদাম পাওয়া যায়। তুলনামূলকভাবে তেতো কাজুবাদাম এ প্রচুর হাইড্রোজেন সায়ানাইড থাকে। সাত থেকে দশটা তেতো কাজু বাদাম কাঁচা খেলে বড়দের সমস্যা হতে পারে এবং ছোটদের জন্য প্রাণনাশক হতে পারে। কিছু কিছু দেশ এই তেতো বাদাম বিক্রি করা অবৈধ ঘোষণা করেছ, যেমন- নিউজিল্যান্ড। আমেরিকাতে কাঁচা কাজু বাদাম বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

চেরি : চেরি জনপ্রিয় একটি ফল। চোখ ধাঁধানো হলকা টক মিষ্টি ফল চেরি। আকৃতি কিছুটা অরবড়ই-এর মত। দেহ সামান্য খাঁচযুক্ত। কাঁচা অবস্থায় সবুজ, পরে হালকা হলুদ এবং সর্বশেষ গাঢ় লাল রং ধারণ করে। গাছের আকৃতি মধ্যম মানের। চেরি হচ্ছে `প্রুনাস` গণের অন্তর্ভুক্ত একটি ফল। চেরি কাঁচা বা রান্না করেও খাওয়া হয় এবং মদ তৈরিতে ব্যবহার হয়। চেরির পাতা এবং বীজে বিষাক্ত উপাদান আছে।যখন চেরির বীজকে চুষা বা চূর্ণ করা হয় তখন প্রুসিক এসিড (হাইড্রোজেন সায়ানাইড) উৎপন্ন হয়। যখন ই চেরি খাবেন এর বীচি চুষে খাবেন না। বরই এবং পীচ ফলের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

কামরাঙ্গা  : অক্সালেট সমৃদ্ধ ভিটামিন সি জাতীয় ফল কামরাঙ্গা। এটি সাধারণত চুল, ত্বক, নখ ও দাঁত উজ্জ্বল করে। মুখে ব্রন হওয়া আটকায়। কামরাঙা কোনোভাবেই খালি পেটে খাওয়া যাবে না। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কামরাঙ্গার মধ্যে থাকা নিউরোটক্সিন স্বাভাবিকভাবে কিডনির কোনও ক্ষতি করে না। কিন্তু কারও কিডনি খারাপ হলে সেই বিষ কিডনির আরও ক্ষতি করতে পারে।

জায়ফল : জায়ফল খাবারকে সুস্বাদু আর সুগন্ধি করে, ভেষজ উপকারিতাও অনেক। খাবারে দিলে সে খাবার চট করে নষ্ট হয় না। নবম শতাব্দীর শুরুর দিকে থিওডর দ্য স্টুডাইট তাঁর শিষ্যদের খাবারের ওপরে জায়ফল গুঁড়ো দিয়ে খেতে বলতেন। স্বাস্থ্য আর মনোযোগ দুই-ই ভাল হবে। জায়ফল গরম মশলায় ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি বা রান্নায়। নানা রকম ওষুধ হিসেবেও জায়ফল ব্যবহার করা হয়। তবে জায়ফলে মাইরিস্টিসিন আছে যা মনের ওপরে কাজ করে। সাধারণত রান্নায় যে পরিমাণ জায়ফল ব্যবহার করা হয় তা ক্ষতিকর নয়। কিন্তু বেশি পরিমাণে খেলে বমি, ঘাম ঝরা, মাথা ঘোরা, মাথা ব্যথা ও হ্যালুসিনেশন হয়।

শুকনো ফল : আমাদের অনেকেরই শুকনো ফলের প্রতি এক ধরনের আসক্তি দেখা যায়। ধুয়ে বা না ধুয়ে অনেকসময় আমরা এ সব ফল মুঠো ভরে খেয়ে ফেলি। কিন্তু এ সব ফল যত কম খাওয়া যায় আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ততটাই মঙ্গল। বাজারে বিক্রি হওয়া এসব শুকনো ফলের বেশিরভাগ সালফার এবং পটাসিয়াম জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করে শিল্প কারখানায় শুকানো হয়। যা হজমে ব্যাঘাত ঘটায়। আর তাই সুষ্ঠু হজম ক্রিয়ার জন্য শুকনো ফল বেশি পরিমাণে না খাওয়াই উত্তম। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রচুর পরিমাণ সালফারের ব্যবহার হজমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়া এটা পাকস্থলির সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে। যে সব শস্য সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়নি, সেগুলোতে মাইক্রো-টক্সিন নামে এক ধরনের ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে যা আমাদের জন্য বিপজ্জনক।

আলু : আলু সহজলভ্য এবং নানা ধরনের খাদ্যদ্রব্য প্রস্তত করা যায় বিধায় বিশ্বব্যাপী আলুর চাহিদা ব্যাপক। তবে সবুজ দাগযুক্ত আলু শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের আলুতেসোলানাইন নামক বিষাক্ত পদার্থ থাকে যা রান্না এবং পোড়ানোর পরও দূর হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আলুর সবুজ অংশ ফেলে দেওয়া সব সময় নিরাপদ নয়। বরং এই ধরনের আলু ব্যবহার না করাই উত্তম। এছাড়া আলুর পাতা ও কাণ্ডে গ্লাইকো অ্যাল্কালয়েড থাকে। বাসায় অনেক দিন পর্যন্ত আলু রেখে দিলে এর মধ্যে গ্যাঁজ হয়ে যায়। এই গ্যাঁজে গ্লাইকো অ্যাল্কালয়েড থাকে যা আলোর সংস্পর্শে বৃদ্ধি পায়।

টমেটো : সবজি এবং সালাদ হিসেবে ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ টমেটোর বেশ চাহিদা। তবে টমেটোর পাতা ও কাণ্ডে গ্লাইকো অ্যাল্কালয়েড থাকে যা হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে। কাঁচা সবুজ টমেটোতেও একই উপাদান আছে। তবে অল্প পরিমাণে খেলে সমস্যা নেই। কিন্তু বেশি পরিমাণ খেলে মৃত্যু রোগের কারণ হতে পারে।