রবিবার, ১৪ই মে, ২০১৭ ইং ৩১শে বৈশাখ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

মুসলিমরা বিজেপি করলে একঘরে করা হবে : কলকাতার ইমামের হুমকি

AmaderBrahmanbaria.COM
মে ১১, ২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কোনো মুসলমান যদি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন তাহলে তাকে পিটিয়ে একঘরে করা হবে, এমন ঘোষণা দিয়েছেন কলকাতার টিপু সুলতান মসজিদের শাহী ইমাম।

টিপু সুলতান মসজিদের ইমাম নুর-উর রহমান বরকতি বলেছেন, ‘কেউ যদি সাচ্চা মুসলমান হন, তাহলে তিনি কোনোভাবেই আরএসএসের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারেন না। আজকের বিজেপি এবং আরএসএসের মধ্যেও কোনো ফারাক নেই। ওই সংগঠনগুলিতে যোগ দেওয়ার অর্থ কাফের হয়ে যাওয়া।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘যেভাবে মুসলমানদের ওপরে অত্যাচার করছে বিজেপি – কখনও গরু খাওয়া নিয়ে, কখনও মুসলমান যুবকদের সন্ত্রাসী বলে প্রচার করে, কখনও তিন তালাক ইস্যুতে ; এরপরেও যদি কোনো মুসলমান সেই দলে যায়, তাহলে কী তার ঈমান বলে আর কিছু থাকে? সে তো এমনিতেই সামাজিকভাবে একঘরে হয়ে পড়বে। এরকম লোককে পেটানো তো হবেই, ছাড়া হবে না তাকে।’

টিপু সুলতান মসজিদের এই শাহী ইমাম নিজেকে বিজেপি এবং আরএসএসের ঘোরতর বিরোধী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা ব্যানার্জীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে বিজেপির অন্যতম জাতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা বলছেন, ‘উনি (ইমাম নুর-উর রহমান বরকতি ) একজন উগ্রপন্থী মৌলবী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর কাছ থেকে নানা সুবিধা আদায়ের জন্য মাঝে মাঝে এ ধরণের কথা উনি বলে থাকেন। তাকে যদি মৌলবীগিরি করতে হয়, তাহলে সেটাই তিনি করুন, আর রাজনীতি করতে হলে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের ঝাণ্ডা নিয়ে নেমে পড়ুন। এসব কথা বলে উনি মুসলমান সমাজেরই ক্ষতি করছেন।’

‘বিজেপি তো একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দল এবং ভারতের প্রত্যেক নাগরিকেরই তো অধিকার রয়েছে নিজের পছন্দের দল বেছে নেওয়ার।’-এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ইমাম নুর-উর রহমান বরকতি বলেছেন, ‘অনেক দল তো আছে – বহুজন সমাজ পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এসব করুক না মুসলমানরা। কিন্তু বিজেপি বা আরএসএস নয়।’

এই প্রসঙ্গে আসামের কাছাড় জেলার এক বিজেপি বিধায়ক আমিনুল ইসলাম লস্কর বলেছেন, ‘ওই ইমাম বিজেপি এবং আরএসএস সম্বন্ধে কিছুই জানেন না বোধহয়। এই দুটো যে শুধু হিন্দুদের দল নয়, তা তো প্রমাণিত। বহু মুসলমান আরএসএস এবং বিজেপিতে আছেন। আমি যে এলাকার বিধায়ক, সেখানে ৬৮% মুসলমান – আমি তো তাদেরও ভোট পেয়েছি।’

প্রসঙ্গত, ভারতের জাতীয় স্তরেও মন্ত্রী মুক্তার আব্বাস নকভি, শাহনওয়াজ হুসেইন, এম জে আকবরের মতো মুসলিম নেতারা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে রয়েছেন। বিজেপির একটি সংখ্যালঘু সেলও রয়েছে, যার প্রধান আব্দুল রশিদ আনসারি। কিছুদিন আগে শেষ হওয়া উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনেও তারা মুসলমানদের কাছ থেকে অনেক ভোট পেয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। মুসলমান ভোটাররাই নির্বাচনে নির্ণায়ক শক্তি, এমন বহু জায়গায় জয়ী হয়েছে বিজেপি, যার মধ্যে রয়েছে দেওবন্দ, যেখানে অন্যতম প্রধান ইসলামিক শিক্ষাকেন্দ্র দারুল উলুম প্রতিষ্ঠিত। সূত্র : বিবিসি বাংলার সৌজন্যে