শুক্রবার, ২১শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং ৮ই বৈশাখ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

নির্যাতনের পর রাজনকে পানি না দেওয়া অমানবিক : আদালত

AmaderBrahmanbaria.COM
এপ্রিল ১১, ২০১৭

আদালত প্রতিবেদক : সিলেটের সবজিবিক্রেতা শিশু সামিউল আলম রাজনকে নির্যাতনের পর পানি না দেওয়ার ঘটনাটি অমানবিক। এই হত্যা মামলায় এমনটাই পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, এই মামলায় উদ্দেশ্য খোঁজার (ইনটেনশন) প্রয়োজন নেই। ঘটনার প্রেক্ষাপটে তাৎক্ষণিক উদ্দেশ্য তৈরি হতে পারে।

আজ মঙ্গলবার রাজন হত্যা মামলায় চার আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি তিন আসামির সাত বছর করে কারাদণ্ড ও দুই আসামির এক বছর করে সাজার রায় বহাল রেখেছেন আদালত। তবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া এক আসামির সাজা বদলে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আদালত বলেন, নির্যাতনের পর শিশুটি পানি চেয়েছিল, তা না দেওয়া অমানবিক। ঘটনাটি নিষ্ঠুর ও নৃশংস। ভিডিও ফুটেজে প্রতীয়মান হয়, নির্যাতনের কারণেই ঘটনাস্থলে শিশুটি মারা যায়।

পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, ঘটনাস্থলে যারা ছিল, তারা সেখানে একদল পশুর মতো আচরণ করেছে। হারিয়েছিল মানবিকতা। তাদের আচরণ ছিল অমানবিক। আসামিপক্ষ ভিডিও ফুটেজ সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ না করার যে কথা বলেছে, এর পেছনে আদালত কোনো যুক্তি খুঁজে পায়নি। এই মামলায় ভিডিও ফুটেজটি অবশ্যম্ভাবীভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চুরির অভিযোগ তুলে শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকারীরাই আবার সেই নির্যাতনের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়, যা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তদন্ত শেষ করে ওই বছরের ১৬ আগস্ট ১৩ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ১৭ কার্যদিবস বিচারিক কার্যক্রম শেষে ওই বছরের ৮ নভেম্বর আদালত চার আসামির মৃত্যুদণ্ড রায় দেন।