মঙ্গলবার, ২রা মে, ২০১৭ ইং ১৯শে বৈশাখ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

লেগুনার মালিক শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মানবন্ধন

AmaderBrahmanbaria.COM
ডিসেম্বর ২৬, ২০১৬

সরাইল (ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : ৪ স্ট্রোক হিউম্যান হলার (লেগুনা) মালিক শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইলের বিশ্বরোড মোড়ে মানবন্ধন করেছে শ্রমিকরা। সোমবার সকালে লেগুনা শ্রমিক নেতা মোঃ কামরুজ্জামান কাজল, মোঃ জসিম মিয়া ও মোঃ আরব আলীর নেতৃত্বে দুই শতাধিক হলার মালিক- শ্রমিক এ কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন করেছে। জেলা বাস মালিক শ্রমিকদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে লেগুনার শ্রমিকদের দ্বন্ধ চলে আসছে। উভয় পক্ষের মামলা উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। পক্ষদ্বয় প্রতিপক্ষের যানবাহনকে অবৈধ বলছে। এর জের ধরে একাধিকবার তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। পুলিশ ও লেগুনার শ্রমিক নেতারা জানায়, জেলা শহরের প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কব্জায় বন্ধী হয়ে আছে লোকাল বাস বাণিজ্য। দীর্ঘদিন ধরে নিয়ামত খান ও আলমগীরের নেতৃত্বে চলছে চাঁদাবাজি। ফিটনেস ও নিবন্ধন বিহীন ওই বাস গুলোই ঘুরে ফিরে সড়কে চলছে যুগ যুগ ধরে। বিনিময়ে গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। ৩ লাখ টাকার বাস বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ লাখ টাকায়। যাত্রী সেবায় অন্য কোন যান সড়কে চললেই বাঁধা দেয় লোকাল বাস মালিক ও শ্রমিক সমিতির কতিপয় লোক। চাহিদা মাফিক চাঁদা পেলেই তারা শ্রমিকদের উপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালায়। সড়কে চলাচলকারী লক্কর ঝক্কর বাসের কারনে সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাচ্ছে আশুগঞ্জ, সরাইল, সদর, বিজয়নগর ও নাসিরনগর উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। তাই যাত্রীদের সুবিধার্থে গত এক বছর আগেই আমরা সড়কে ৪ স্ট্রোক হিউম্যান হলার গাড়ি চালানোর চেষ্টা করি। তারা আমাদের বৈধ যানবাহন চলে বাঁধা দেয়। আলমগীর ও নিয়ামত খার নেতৃত্বে একাধিকবার আমাদের গাড়ি ভাংচুর করে শ্রমিকদের উপর হামলা চালায়। এ নিয়ে সম্প্রতি কয়েকবার মহাসড়কে মারধর, ভাংচুর, হামলা মামলার ঘটনাও ঘটেছে। ঘন্টা ব্যাপি স্থায়ী মানববন্ধন থেকে লেগুনার শ্রমিক নেতারা জানায় , উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্বেও তারা বারবার মহাসড়কে আমাদের গাড়ি গুলো চলতে দিচ্ছে না। আবার আমাদেরকে হয়রানী করার লক্ষ্যে বারবার মিথ্যা বানোয়াট মামলা করছে। তাদের এ ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা পাওয়ার দাবীতেই আজকের এ মানববন্ধন কর্মসূচি। জেলা হিউম্যান হলার ম্যাক্সি ও রাইডার মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ মনসুর আলী দানা বলেন, সারা দেশেই এগাড়ি চলছে। কোন বাঁধা নেই। কিন্তু এখানে কিছু ক্ষীণ উদ্যেশ্যে বারবার কেন বাঁধা দিচ্ছে। বিশ্বরোড হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হুমায়ুন কবীর লেগুনা চলাচলে বাঁধা হামলা মামলার কথা স্বীকার করে বলেন, লেগুনা চলাচলের পক্ষে উচ্চ আদালত থেকে রায় দিয়েছে। কিন্তু বাস শ্রমিক নেতারা আবার সেই রায়কে ৪ সপ্তাহের জন্য স্থগিতের আদেশ এনেছে। তাই ওই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।