g ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আন্তঃনগর ট্রেনের আসন সংখ্যা কমেছে : যাত্রীদের চরম ভোগান্তি | AmaderBrahmanbaria.Com – আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া

শুক্রবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৭ ইং ৩রা ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আন্তঃনগর ট্রেনের আসন সংখ্যা কমেছে : যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

AmaderBrahmanbaria.COM
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৭

---

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলের যাত্রাপথে চলাচলকারী চারটি আন্তঃনগর ট্রেনের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যাত্রীদের জন্য বরাদ্দকৃত আসন সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার থেকে আরও দুটির আসনসংখ্যা কমানো হবে। এতে করে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। ফলে যাত্রীদের মধ্যে চরম ভোগান্তি লক্ষ করা গেছে। স্টেশন সূত্রে জানাযায়, রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয় এমন চারটি আন্তঃনগর ট্রেনের বরাদ্দ করা আসনসংখ্যা ১৪ জানুয়ারি কমানো হয়। এ ছাড়া আজ মঙ্গলবার থেকে ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেসের আসনসংখ্যা কমানোরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। ঢাকাগামী মহানগর গোধূলির শোভন শ্রেণিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যাত্রীদের জন্য আসন বরাদ্দ ছিল ১৬৫টি। শোভন শ্রেণিকে শোভন চেয়ারে পরিবর্তন করে আসনসংখ্যা করা হয়েছে ১০০টি। পাশাপাশি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত প্রথম শ্রেণির ১০টি আসনও বাতিল করা হয়েছে। ঢাকাগামী তূর্ণা-নিশীতার শোভন চেয়ারের আসনসংখ্যা ৬০টির স্থলে ৪০ করা হয়েছে। চট্টগ্রামগামী মহানগর প্রভাতীতে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত প্রথম শ্রেণির (এসি) আসন ১৬টি থেকে কমিয়ে ছয়টি, শোভন শ্রেণির আসন ১০০ থেকে কমিয়ে ৫০টি করা হয়েছে। একই ট্রেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে কুমিল্লার যাত্রীদের আসন ২৫টি থেকে কমিয়ে ১৫টি করা হয়েছে। আর লাকসাম যাতায়াতের জন্য কোনো আসনই দেওয়া হয়নি ব্রাহ্মণবাড়িযা স্টেশন থেকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-ফেনী আসন দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০টি। চট্টগ্রামগামী তূর্ণা-নিশীতার শোভন চেয়ার শ্রেণিতে আসন ৬০টি কমিয়ে ৫০ করা হয়েছে। তবে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) আসন পাঁচটিই রয়েছে।ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের শোভন শ্রেণির আসনসংখ্যা ১২৭টি। তা কমিয়ে করা হবে ১০০টি। শোভন শ্রেণির নাম শোভন চেয়ারে পরিবর্তন করা হবে। ওই ট্রেনে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত প্রথম শ্রেণির (এসি) আসন ছয়টি থাকলেও কয়েকটি আসন আরো বাড়ানো হবে। চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে শোভন শ্রেণির আসনসংখ্যা ১২৫টি থেকে ৬০টি আসন কমানো হবে। এ ট্রেনে প্রথম শ্রেণির কোনো আসন বরাদ্দ নেই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রেনযাত্রী মৌড়াইল এলাকার বাসিন্দা ইকবাল মিয়া, মোশাররফ মিয়া, রোকসানা বেগমসহ অন্তত ১০/১২ জন যাত্রীর সাথে কথা হলে তারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ফেনী, লাকসাম, নোয়াখালী অভিমুখী ট্রেনগুলোর প্রতিটিতে প্রতিদিন আসনের তুলনায় দ্বিগুণ-তিন গুণ যাত্রী দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করছেন। তাঁরা আরো বলেন, এমনিতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকা বা চট্টগ্রামের টিকিট তেমন একটা পাওয়া যেত না। এখন তো আর পাওয়ার আশাই করা যায় না। তাঁরা রেল বিভাগসহ সরকারের কাছে ট্রেনের আসন বাড়ানোর দাবি জানান। এমনিতেই ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-নোয়াখালী রেলপথে চলাচলকারী অন্যান্য আন্তঃনগর ট্রেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যাত্রীদের তুলনায় পর্যাপ্ত আসন নেই। বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনে টিকিট বিক্রি বাবদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশন থেকে সরকারের প্রতিদিন রাজস্ব আয় হয় লক্ষ লক্ষ টাকা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রেলস্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, নতুন সংযুক্ত বগিতে আসন কম হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যাত্রীদের জন্য আসন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে যাত্রীদের যাতায়াতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আন্তঃনগর ট্রেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যাত্রীদের জন্য প্রায় ৬৫০টি আসন রয়েছে। আসন কমিয়ে দেওয়া হলেও টিকিট বিক্রি আগের মতোই রয়েছে। 

 

এ জাতীয় আরও খবর