রবিবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

যারা কোরিয়াতে ছাত্র ভিসাতে আসতে চান তাদের জন্য কিছু কথা লিখছিঃ

AmaderBrahmanbaria.COM
জুন ২০, ২০১৪

---

koreaভিসা একটি দেশে প্রবেশের অনুমতি, এটা যে দেশে যাচ্ছেন এবং যেই দেশ থেকে যাচ্ছেন তার উপর নির্ভর করে। এছাড়াও ভিসা ক্যাটেগরিতো আছেই।তাই এই সব বিষয়ের উপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন কাগজ পত্র জমা দিতে হয়। কোরিয়াতে যারা ছাত্র ভিসা নিয়ে আসতে চান তাদের মনে রাখতে হবে আপনি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট / মাস্টার্স / পি এইচ ডি যে কোর্সেই আসুন না কেন আপনার বেশিরভাগ ডকুমেন্টস একই হবে শুধু মাত্র ভর্তি এবং স্কলারশীপ এর কাগজ পত্র ছাড়া। তাই নিচের ডকুমেন্টস গুলো জমা দিতে হবেঃ

১. অন্তত ১৫ মাসের মেয়াদ সহ বৈধ পাসপোর্ট এবং এর প্রথম ৫ পৃষ্ঠার (অন্তত) কপি, যদি পাসপোর্টে অন্য কোন ভিসা থেকে থাকে তবে সেই পৃষ্ঠার কপিও দিতে হবে।

২. দূতাবাস কর্তৃক প্রদত্ত ভিসা আবেদন পত্র
(http://www.mofa.go.kr/english/visa/images/res/visakorean.pdf)।
৩. দুই কপি সদ্য তোলা পাসপোর্ট (আসল সাইজ ৩.৫ সেন্টি. X ৪.৫ সেন্টি) সাইজের ছবি, এক কপি অবশ্যই আঠা দিয়ে ভিসা আবেদন পত্রের নির্দিষ্ট স্থানে লাগাতে হবে। সত্যায়নের দরকার নাই।

৪. আবেদনকারীর স্বহস্তে লেখা (কম্পিউটার প্রিন্ট হলেও হবে) কন্সুলার বরাবর ভিসার জন্য আবেদন (দরখাস্ত)।

৫. এস এস সি, এইচ এস সি,আন্ডার গ্র্যাজুয়েট এবং মাস্টার্স (যদি থাকে)এর নম্বর পত্র এবং সার্টিফিকেট মূল কপি এবং এক কপি ফটোকপি শিক্ষা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত করা।
(এই সব কাগজ মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি সত্যায়িত করেনা, প্রথমে নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ড (এস এস সি এবং এইচ এস সি) এবং বিশ্ববিদ্যালয় (আন্ডারগ্র্যাজুয়েট এবং মাস্টার্স) প্রতিপাদন (Verification) করাতে হবে। এই ক্ষেত্রে মূল কপি সহ ৫ কপি (বেশি দিলে মন্ত্রণালয় থেকে ঠিক মত করতে চায় না,সর্বোচ্চ ৫ কপি করে একই কাগজের)ফটোকপি করে প্রতিপাদন করে যথাক্রমে শিক্ষা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত করাতে হবে।)

৬. কোরিয়াতে ভর্তি হওয়া এবং স্কলারশীপ কাগজ পত্র মূল এবং এক কপি ফটোকপি। এগুলো কোরিয়া থেকে পাঠাবে বা আপনাকে যোগাযোগ করতে হবে পাঠানোর জন্য। এই সব কাগজ গুলো কপি নিজের কাছে সব সময় রাখতে হবে, ইমিগ্রেশন এ দেখাতে হতে পারে। বিশেষ করে আমন্ত্রণ পত্র (Invitation Letter)।

৭. আবেদনকারীর নিজের এবং তার পিতা-মাতার (পিতা-মাতা না থাকলে অভিভাবকের) জাতীয় পরিচয় পত্র / ভোটার পরিচয় পত্র এবং এক কপি ফটোকপি। সত্যায়ন এর দরকার নাই।

৮. আবেদনকারীর জন্ম সনদ (ইংরেজি) মূল কপি এবং এক কপি ফটোকপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত। আগে নোটারি পাবলিক থেকে নোটারাইজড করে নিতে হবে।৯. ফ্যামিলি রেলাশন সার্টিফিকেট (ইংরেজি)সিটি কর্পোরেশন / পৌরসভা / ওয়ার্ড কমিশনার / চেয়ারম্যান অফিস থেকে নেয়া।

১০. আবদেনকারীর নিজের বা পিতা-মাতার বা অভিভাবক (এই ক্ষেত্রে ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে উনি আপনার খরচ বহন করবেন এই মর্মে লিখতে হবে।)একাউন্টে অন্তত ৫ লাখ টাকা দেখাতে হবে। কোরিয়া থেকে স্কলারশীপ এর কাগজ পত্রের সাথে কোরিয়ার প্রফেসর (যারা প্রফেসরের মাধ্যমে যাচ্ছেন)ফিন্যানশিয়াল সাপোর্ট সার্টিফিকেট দিলে ভাল। সেই ক্ষেত্রে ৫ লাখের কম দেখালেও হবে।

১১. পিতা-মাতা বা অভিভাবকের নো অবজেকশন লেটার (ইংরেজি)। এটা ৫০/১০০ টাকার স্ট্যাম্পে লিখতে হবে। যেকোন নোটারি পাবলিকের দোকানে এর ফর্মেট আছে।

১২. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। এটা সাধারণত আবেদন করলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত করে দেয়। যদি না করে দেয় তাহলে নিজে করে নিতে হবে।

১৩. ভিসা ফি ৩০ মার্কিন ডলার। যা প্রায় ২৫০০ টাকার মত। 

বিঃ দ্রঃ – ৫ নং ধাপে করা ৫ কপি ফটোকপির সবা কাজ শেষে ১ কপি জমা দিবেন ভিসা আবেদনের সাথে আর বাকি ৪ কপি থেকে ২ কপি আবার নোটারাইজড করবেন এবং অবশ্যই কোরিয়া নিয়ে আসবেন, পরে কোরিয়াতে কাজে লাগবে।
সবাইকে অনেক শুভ কামনা রইল