বৃহস্পতিবার, ২৯শে ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং

নিজামীর ফাঁসি কার্যকর

AmaderBrahmanbaria.COM
মে ১১, ২০১৬

fasi-sm20160510180900মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়েছে। রাত ১২ টা ১ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার দণ্ড কার্যকর হয়। একই অপরাধে নিজামীসহ এ পর্যন্ত পাঁচজন রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলো। এর মধ্যে চারজনই জামায়াতের শীর্ষ নেতা। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা এবং বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর। গতকাল সকাল থেকে নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয় । বৈঠক করেন কারা কর্মকর্তারা। বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ফাঁসি কার্যকরে নির্বাহী আদেশ আসার পর তার পরিবারের সদস্যদের শেষ সাক্ষাতের জন্য ডাকা হয়। এরপরই নিজামীর পরিবারের ২৪ সদস্য তিনটি গাড়িতে করে কারাগারে যান। সাক্ষাৎ শেষে রাত সাড়ে ন’টার দিকে তারা কারাগার থেকে বের হন। তবে তাদের কেউ গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেননি। রিভিউ আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হওয়ার পর গত সোমবার রাতেই তা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কনডেম সেলে থাকা নিজামীকে পড়ে শোনানো হয়। এরপর চিকিৎসকরা তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এর আগে গত রোববার রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয় মতিউর রহমান নিজামীকে।
গতকাল সকালে নিজামীর ফাঁসি কার্যকরকে ঘিরে কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কারা অধিদপ্তরে একটি বৈঠক করেন। আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার আহমেদ দেশে না থাকায় অতিরিক্ত আইজি প্রিজন কর্নেল ইকবালের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় এই বৈঠক। বৈঠকে কিভাবে নিজামীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়। দুপুরের দিকে  ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হয়ে যান কারা অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক গোলাম হায়দার। তবে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। দুপুরের পরপরই অতিরিক্ত আইজি প্রিজন ও ঢাকা বিভাগের কারা কর্মকর্তা গোলাম হায়দার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, নিজামী যদি প্রাণভিক্ষা না চান তাহলে তার যে কোনো মুহূর্তে রায় কার্যকর করা হবে। যদি তিনি ক্ষমা চান তাহলে তার প্রাণভিক্ষার বিষয়টি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেবো। আর না চাইলে আমরা দণ্ড কার্যকরের ব্যবস্থা করবো। গতকাল বিকালে কারা কর্তৃপক্ষ জানান, নিজামী রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমাভিক্ষা চাননি। নিজামীর প্রাণভিক্ষা চাইবেন কিনা সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির তার কাছে জানতে চান। তবে নিজামী হ্যাঁ বা না বোধক কোনো সাড়া না দিয়ে চুপ থাকেন। চুপ থাকাকে না ধরে নিয়ে রায় কার্যকরের প্রস্তুতি নেয়া হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একজন কর্মকর্তা জানান, গত সোমবারই ফাঁসির মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারা শুধু সরকারের আদেশের অপেক্ষায় ছিলেন।

স্বজনদের শেষ সাক্ষাৎ
সন্ধ্যায় নিজামীর সঙ্গে শেষ সাক্ষাতের জন্য কারা কর্তৃপক্ষ তার পরিবারকে জরুরি তলব করে। পরে সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটে নিজামীর স্ত্রী-সন্তানেরা মিলে মোট ২৪ জন সদস্য নিজামীর সঙ্গে দেখা করেন। স্বজনদের মধ্যে নিজামীর স্ত্রী শামসুন্নাহার, দুই ছেলে ড. হালিম ও ব্যারিস্টার নাজিম মোমেন এবং তাদের স্ত্রী, খাদিজাসহ দুই মেয়ে এবং তাদের স্বামী, এক চাচা, ভাই, নিজামীর দুই বোন ও ৪ ভাতিজাসহ সবাই কারাগারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন।

বিকালে আনা হয় জল্লাদ রাজুকে
গতকাল বিকালে কাশিমপুর কারাগার থেকে জল্লাদ  রাজুকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। বিকাল তিনটার দিকে কারারক্ষীদের প্রহরায় প্রিজন ভ্যানে করে এনে রাজুকে কারাগারের ভেতরে নেয়া হয়েছে। নিজামীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকরে প্রধান জল্লাদ হিসেবে নাম ছিল তানভীর হাসান রাজুর। তার সঙ্গে আরও ৪ জন নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকর করার সময় ছিলেন। অপর জল্লাদরা হলো- মাসুদ, ইকবাল ও আবুল। কারাগারের একজন কর্মকর্তা জানান, সাধারণত এক আসামির ফাঁসি কার্যকরের সময় জল্লাদদের ছয়জনের একটি দল থাকে। এর আগে চার যুদ্ধাপরাধীর দণ্ড কার্যকরের সময় রাজু মূল জল্লাদের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময় মূল জল্লাদের ভূমিকা পালন করেন শাহজাহান নামে একজন কয়েদি। শাহজাহান অসুস্থ থাকায় এবার রাজুকে প্রধান জল্লাদের দায়িত্ব দেয়া হয় বলে কারা সূত্র জানিয়েছে।
সকাল থেকেই নিরাপত্তা জোরদার
গতকাল সকাল থেকেই কারাগারের সামনে তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুলিশ, র‌্যাব ছাড়াও কারাগারের নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীরা ওই দায়িত্ব পালন করে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরাও তৎপর ছিলেন। তাদেরকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে দেখা যায়। ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতির কথা শোনার পর থেকেই স্থানীয় ও পথচারীরা কারাগারের সামনে ভিড় করেন। তাদের ভিড় সামলাতে পুলিশকে হিমশিম পেতে হয়। কারাগারের সামনের রাস্তাটি খোলা থাকলেও জন ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছিল পুলিশ। কারাগারের দর্শনার্থী সাক্ষাতের বড় কক্ষটি খোলা থাকলেও মূল গেটে ভিআইপিদের জন্য সাক্ষাৎ করার কক্ষটি নিরাপত্তার জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়। সন্ধ্যার পর থেকেই নিরাপত্তা তোড়জোড় আরো বেশি হয়। কারাগারের সামনের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। বিপুল সংখ্যক পোশাকধারী পুলিশ র‌্যাব সদস্যদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত করা হয়। সাদা পোশাকে গোয়েন্দাদের নজরদারি করতে দেখা যায়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার নেসার উদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, প্রত্যেক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রায় কার্যকরের আগে কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর হয়। রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। রাতেই নামানো হয় বিজিবি।

এক নজরে নিজামীর মামলা
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার মামলায় ২০১০ সালের ২৯শে জুন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখানো হয়। ২০১২ সালের ২৮শে মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে তার বিরুদ্ধে বিচারকাজ শুরু হয়। নিজামীর  বিরুদ্ধে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ২৬ জন সাক্ষী  ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা-গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৪ সালের ২৯শে অক্টোবর  বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি আনোয়ারুল হক ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রায় দেন। তার বিরুদ্ধে ৮টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ৪টি অভিযোগে ফাঁসি ও ৪টিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। এ রায়ের  বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে একই বছরের ২৩শে নভেম্বর সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেন নিজামী। তবে, আসামির সর্বোচ্চ সাজা হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেনি। গত ৬ই জানুয়ারি জামায়াত নেতা নিজামীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে গঠিত ৪ সদস্যের আপিল বেঞ্চ। আপিল বিভাগের ঘোষিত রায়ে নিজামীকে ৩টি অভিযোগে ফাঁসি বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এর মধ্যে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার রূপসী, বাউসগাড়ি ও ডেমরা গ্রামের ৪৫০ জনকে হত্যা-ধর্ষণ, ধুলাউড়ি গ্রামে ৫২ জনকে হত্যা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার নীল-নকশা। ২টিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ বহাল রাখা হয়। ৪ নম্বর অভিযোগের দায় থেকে নিজামীকে খালাস দেন আপিল বিভাগ। গত ১৫ই মার্চ বিকালে ১৫৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে গঠিত চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। ওইদিন সন্ধ্যায় পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি পাওয়ার পর বিচারিক আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিজামীর বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন। পরে মৃত্যু পরোয়ানা ঢাকা কেন্দ্রীয়  কারাগার, স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়, ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নিকট পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরই মধ্যে নিজামীর আইনজীবী ও স্বজনরা গাজীপুর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিজামীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি রায় রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) চেয়ে আবেদন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে গত ২৯শে মার্চ দণ্ডপ্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামী তার আইনজীবীদের মাধ্যমে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেন। ৭০ পৃষ্টার মূল রিভিউ আবেদনের সঙ্গে ২২৯ পৃষ্ঠার নথিপথে দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে ৪৬টি যুক্তি (গ্রাউন্ড) তুলে ধরেন তার আইনজীবীরা। ৩রা মে নিজামীর পক্ষে শুনানি করেন তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। ৫ই মে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগের বেঞ্চ নিজামীর করা রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখেন। ৯ই মে চার বিচারপতির স্বাক্ষরিত রিভিউ খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন আপিল বিভাগ। ওই দিন রায়ের অনুলিপি বিচারিক আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ, আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপরই শুরু হয় নিজামীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি।

Loading...

নিজামীর জন্ম ও রাজনৈতিক জীবন
১৯৪৩ সালের ৩১শে মার্চ পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মতিউর রহমান নিজামী। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করা নিজামী ১৯৬১ সালে তৎকালীন পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের (বর্তমান ইসলামী ছাত্রশিবির) সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৬৬-৬৯ সাল পর্যন্ত পূর্ব-পাকিস্তান ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর দু’বার নিখিল পাকিস্তান ইসলামী ছাত্র সংঘের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযদ্ধে বিরোধিতার জন্য বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গ সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে দলের অন্যদের মতো নিজামীও আড়ালে চলে যান। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর আবারও রাজনীতি করার সুযোগ পায় জামায়াত। এ সুযোগে রাজনীতিতে সরব হন নিজামী। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা মহানগরীর আমীর ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর কিছু সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৮ সালে শেষ সময়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে গুরুত্ব পদে আসেন মতিউর রহমান নিজামী। এরপর ২০০০ সালে জামায়াতে ইসলামীর আমীর নিযুক্ত হন তিনি। ১৯৯১ প্রথম পাবনা-১ আসন থেকে  ২০০১ সালে একই আসন থেকে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন নিজামী। তৎকালীন বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার গঠন করলে সেই সরকারের মেয়াদে ২০০১ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত প্রথমে কৃষিমন্ত্রী ও ২০০৩ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তবে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজামীর রায়ে তাকে মন্ত্রী করা জাতির জন্য লজ্জাকর ও অবমাননাকর বলে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে চট্টগ্রামে দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলায় ২০১১ সালের ৪ঠা মে নিজামীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বিচার শেষে ২০১৪ সালের ৩০শে জানুয়ারি চট্টগ্রামের একটি আদালত মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রায় দেন।