বুধবার, ৩১শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং ১৮ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধন আসছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : সংবিধানে সপ্তদশ সংশোধন এনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের মেয়াদ আরও ২০ বছর বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ আগামী বছরের ২৪ জানুয়ারি শেষ হবে। তা বহাল রাখতে তার আগেই সংবিধান সংশোধন করতে হবে।

সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী আনতে ‘প্রক্রিয়া চলছে’ বলে জানালেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি সাবেক আইনমন্ত্রী এবং বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মতিন খসরু।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম রোববার রাতে নিশ্চিত করেছেন যে সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনের একটি প্রস্তাব সোমবার মন্ত্রিসভায় উঠছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “আরও টানা চারটি সংসদের (২০ বছর) জন্য সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ বাড়াতে সংবিধানের সংশোধন আনা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব আগামীকালের (সোমবার) মন্ত্রিসভা বৈঠকে তোলার জন্য এক নম্বর এজেন্ডায় রয়েছে।”

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তিনি জিজ্ঞাসায় বলেন, “কেবিনেটে কালকে (সোমবার) যে আলাপ হবে, সেটা কিন্তু আমি আজকে বলতে পারি না, … আমি যা বলব আগামীকাল (সোমবার) বলব।”

এ বিষয়ে কথা বলতে লেজেসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংবিধানের ৬৫ (৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, “সংবিধান (চতুর্দশ সংশোধন) আইন, ২০০৪ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অব্যবহিত পরবর্তী সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে শুরু করিয়া দশ বৎসর কাল অতিবাহিত হইবার অব্যবহিত পরবর্তীকালে সংসদ ভাংগিয়া না যাওয়া পর্যন্ত পঞ্চাশটি আসন কেবল মহিলা-সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে …।”

সংবিধান অনুযায়ী ৩৫০ জন সংসদ সদস্য নিয়ে দশম জাতীয় সংসদ গঠিত হয়। সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে ৩০০ জন এবং সংসদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে ৫০ জন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

২০০৪ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন করে সংরক্ষিত নারী সদস্যের ৪৫টি আসন সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আনুপাতিক হারে বণ্টনের ব্যবস্থা করা হয়। তখন এর মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয় পরবর্তী সংসদের অর্থাৎ, নবম সংসদের প্রথম বৈঠক থেকে দশ বছর।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি। সেই হিসেবে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের মেয়াদ আছে ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।

২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী সদস্যদের সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ এ উত্তীর্ণ করা হলেও ওই সময় আর মেয়াদ বাড়ানো হয়নি।

সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের পেলে তা পাস করতে বিল আকারে সংসদে পাঠানো হবে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে ওই প্রস্তাব যাচাই-বাছাইয়ের পর তা পাস করতে হবে।

সংবিধান সংশোধন করতে হলে সংসদ সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট লাগবে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ২৩২ আসন নিয়ে সরকার গঠন করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য হাতে আরও এক বছর সময় থাকলেও সরকার এই মেয়াদেই কাজটি শেষ করে রাখতে চায়।

হঠাৎ করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ কেন- এই প্রশ্নে ওই নেতা বলেন, খালেদা জিয়ার মামলার রায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সম্ভাব্য আন্দোলন- এসব বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ দেওয়া হয়েছে।”

সংবিধানের সর্বশেষ সংশোধন হয়েছিল ২০১৬ সালে। ওই সংশোধনে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। পরে সর্বোচ্চ আদালত ওই সংশোধনী অবৈধ বলে রায় দেয়। বিডিনিউজ