শনিবার, ২২শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং ৯ই বৈশাখ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

রাজনীতিতে নতুন তারকা নওয়াজকন্যা মরিয়ম

AmaderBrahmanbaria.COM
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক তারকা হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের কন্যা মরিয়ম শরিফ। তবে নওয়াজ পরিবার বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন মর্মে পানামা পেপারসের ফাঁস করে দেয়া খবরে কিছুটা চাপের মধ্যে রয়েছেন তিনি।

প্রশ্ন হচ্ছে, এটা কি প্রধানমন্ত্রী কন্যার উত্থানকে ঠেকাতে পারবে? এমন প্রশ্নের জবাব খুঁজেছেন বিবিসির সাংবাদিক শুমাইলা জাফরি। তিনি বলেন, আমার এখনও স্পষ্ট মনে আছে যখন আমি প্রথমবার মরিয়ম শরিফকে দেখেছিলাম, এটি ছিল ১৯৯১ সালে লাহোর আমার কলেজ শুরু করার কয়েকদিন পর। আমি কলেজ বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি। এমন সময় হঠাৎ তিনি উপস্থিত হলেন। তার পরনে ছিল সাদা লম্বা জামা আর হাতে বহন করছিলেন তার বাবা নওয়াজ শরিফের ছবি সংবলিত একটি ছোট বই। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কন্যা এবং কলেজের একজন ‘সেলিব্রেটি’। চার পাশে মেয়েদের একটি দল তাকে ঘিরে ধরেছে।

নব্বইয়ের দশকে নিজেদের পাঞ্জাব প্রদেশের অন্যতম বিশিষ্ট প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন শরিফ পরিবার। দেশটির ইতিহাসে রাজনৈতিকভাবে এটি ছিল সর্বাধিক অস্থির দশকের অন্যতম। কেননা ওই সময়ের মধ্যে নওয়াজ শরিফের সরকারসহ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত চার চারটি সরকারকে তাদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এই সময়টাতে মরিয়ম তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। লোকচক্ষুর বাইরে দুই সন্তানকে লালন-পালন করছিলেন তিনি।

বাবার পক্ষে লড়াই : রক্তপাতহীন এক সেনা অভ্যুত্থানের পর ১৯৯৯ সালের অক্টোবরে নওয়াজ শরিফকে জেলে এবং পরিবারের পুরুষ সদস্যদের গৃহবন্দি করা হলে মরিয়ম ও তার মা স্বৈরশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফকে চ্যালেঞ্জ জানান। সৌদি বাদশার সহায়তায় মরিয়ম ও তার মা কুলসুম জেনারেল মোশাররফের সঙ্গে এক চুক্তি করেন।

চুক্তি অনুসারে নওয়াজ শরিফকে মুক্ত করে সপরিবারে সৌদি আরবে নির্বাসনে পাঠানো হয়। প্রায় ৮ বছর, ২০০৭ সালে তারা দেশে ফিরে আসেন। ওই বছরই পাঞ্জাবের এক নির্বাচনে জয়লাভ করে আঞ্চলিক সরকার গঠন করেন নওয়াজ শরিফ।

তরুণ ভোটারকে টার্গেট : ২০১১ সালে আরেকটি রাজনৈতিক উত্থান ঘটে পাকিস্তানে। নওয়াজ শরিফের ক্ষমতার ঘাঁটি লাহোরে এক সমাবেশের আয়োজন করেন সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান। ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া ইমরানের খানের এ সমাবেশ বহু যুবক অংশগ্রহণ করে এবং তা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষগুলোর মধ্যে ব্যাপক শংকার সৃষ্টি করে। এমন পরিস্থিতিতে আবার সামনে আসেন মরিয়ম। দলে কোনো রাজনৈতিক অবস্থান ছাড়াই ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ পরিদর্শন শুরু করেন।

যুবকদের মধ্যে সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের বর্ধিষ্ণু জনপ্রিয়তা ঠেকাতে এবং তরুণদের নিজেদের দলে ভেড়াতে নওয়াজ শরিফের পিএমএল-এন দলের নতুন মুখ হিসেবে কাজ শুরু করেন মরিয়ম। আশা করা হচ্ছে অচিরেই পাকিস্তানের রাজনীতির ক্ষেত্রে নতুন তারকা হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন তিনি।