শনিবার, ৩রা জুন, ২০১৭ ইং ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব ইজতেমার ১ম পর্ব শুরু

AmaderBrahmanbaria.COM
জানুয়ারি ১৩, ২০১৭

---

আজ বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তাবলিগ জামাতের বৃহত্তম জমায়েত ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে প্রতি বছরের মতো এবারও সারা বিশ্বের তবলিগ জামাতের লাখো মুসল্লি অংশ নিচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে জড়ো হতে শুরু করেছেন। লাখো মুসল্লির পদচারণায় এরই মধ্যে মুখরিত হয়ে উঠছে তুরাগ তীর।

শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ইজতেমা। ১৫ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রথম পর্ব। এই পর্বে ১৬টি জেলার মুসল্লিরা অংশ নেবেন। ২০ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। এতেও ১৬ জেলার মুসল্লিরা অংশ নেবেন।

সুষ্ঠুভাবে ইজতেমা সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। ১৬০ একর জমির ওপর নির্মিত বিশাল প্যান্ডেল, খুঁটিতে নম্বর প্লেট, খিত্তা নম্বর, তাশকিল কামরা, মাস্তুরাত (নারীদের) কামরার কাজ শেষ হয়েছে। মুসল্লিদের যাতায়াতে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা তুরাগ নদে সাতটি ভাসমান সেতু নির্মাণ করেছেন।

মুসল্লিদের অবস্থান: প্রথমপর্বে ১৬ জেলার মধ্যে ঢাকা ১-৫ খিত্তায়, টাঙ্গাইল (৬-৮), ময়মনসিংহ (৯-১১), মৌলভীবাজার (১২), ব্রাহ্মণবাড়িয়া (১৩), মানিকগঞ্জ (১৪), জয়পুরহাট (১৫), চাঁপাইনবাবগঞ্জ (১৬), রংপুর (১৭), গাজীপুর (১৮-১৯), রাঙ্গামাটি (২০), খাগড়াছড়ি (২১), বান্দরবান (২২), গোপালগঞ্জ (২৩), শরীয়তপুর (২৪), সাতক্ষীরা (২৫) এবং যশোরের মুসল্লিরা ২৬-২৭ নম্বর খিত্তায় অংশ নেবেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা: ইজতেমা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হাতে নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আজ থেকে পুলিশ, র‌্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রায় ১২ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এর আগে সোমবার থেকেই প্রতিটি প্রবেশপথে পুলিশ রয়েছে। র‌্যাবের কমিউনিকেশন উইং ও পুলিশের পক্ষ থেকে ১৮টি প্রবেশপথসহ চারপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শতাধিক ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

যান চলাচলে ডিএমপির নির্দেশনা: মুসল্লিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে যানবাহন পার্কিং সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইজতেমার সময় রেইনবো ক্রসিং হতে আব্দুল্লাহপুর হয়ে ধউর ব্রিজ পর্যন্ত এবং রামপুরা ব্রিজ হতে প্রগতি সরণী পর্যন্ত রাস্তা ও রাস্তার পার্শ্বে কোন যানবাহন পার্কিং করা যাবে না। তবে ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের যানবাহনসমূহ বিভাগ অনুযায়ী পার্কিং করা যাবে। নির্দেশনায় বিভিন্ন বিভাগের পার্কিংয়ের স্থান নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম বিভাগের যানবাহন পার্কিংয়ের জন্য গাউসুল আজম এভিনিউ (১৩ নম্বর সেক্টর রোডের পূর্ব প্রান্ত হতে পশ্চিম প্রান্ত হয়ে গরীবে নেওয়াজ রোড) নির্ধারণ করা করে দেয়া হয়।

এছাড়া ঢাকা বিভাগ পার্কিং: সোনারগাঁও জনপথ চৌরাস্তা হতে দিয়াবাড়ী খালপাড় পর্যন্ত, সিলেট বিভাগ পার্কিং: উত্তরাস্থ ১২ নম্বর সেক্টর শাহমখদুম এডিনিউ, খুলনা বিভাগ পার্কিং: উত্তরাস্থ ১৬ ও ১৮ নং সেক্টরের খালি জায়গা, রংপুর বিভাগ পার্কিং: কামারপাড়া ট্রাকস্ট্যান্ড ও উত্তরাস্থ ১০নং সেক্টরের খালি জায়গা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগ পার্কিং : প্রত্যাশা হাউজিং, বরিশাল বিভাগ পার্কিং: ধউর ব্রিজ ক্রসিং সংলগ্ন পার্কিং (আশা বিশ্ববিদ্যালয়ের খালি জায়গা) এবং বিআইডব্লিউটিএ ল্যান্ডিং স্টেশন, ঢাকা মহানগরী পার্কিং: উত্তরাস্থ শাহজালাল এভিনিউ, নিকুঞ্জ-১ ও নিকুঞ্জ-২ এর আশপাশের খালি জায়গা।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, নির্ধারিত পার্কিংয়ের স্থানে মুসল্লিবাহী যানবাহন পার্কিং এর সময় অবশ্যই গাড়ির চালক/হেলপার গাড়িতে অবস্থান করবেন এবং মালিক ও চালক একে অপরের মোবাইল নম্বর নিয়ে রাখবেন, যাতে বিশেষ প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে পারস্পরিক যোগাযোগ করা যায়।

ডাইভারশন সংক্রান্ত তথ্যাদি: ডাইভারশন পয়েন্টসমূহ (শুধুমাত্র আখেরী মোনাজাতের দিন আগামী ১৫ জানুয়ারি ও ২২ জানুয়ারি ভোর ৪টা হতে): মহাখালী ক্রসিং, হোটেল রেডিসন গ্যাপ, প্রগতি সরণী, কুড়িল ফ্লাইওভার লুপ-২, ধউর ব্রিজ, বেড়িবাঁধ সংলগ্ন উত্তরা ১৮নং সেক্টরের প্রবেশ মুখ।

চিকিৎসাসেবা: মুসল্লিদের চিকিৎসা সেবা দিতে গাজীপুর সিভিল সার্জন টঙ্গী ৫০ শয্যা হাসপাতালকে অস্থায়ীভাবে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। টঙ্গী থানা প্রেস ক্লাব, টঙ্গী ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, রোটারি ক্লাব অব টঙ্গী, হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ, ইবনে সিনা, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, র‌্যাব, ইমাম সমিতিসহ অর্ধশতাধিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান বিনা মূল্যে ওষুধ সরবরাহ করবে।

১২ জোড়া বিশেষ ট্রেন: আগামীকাল কাল বাদ জুমা ঢাকা-টঙ্গী, টঙ্গী-ঢাকা এবং শনিবার লাকসাম-টঙ্গী বিশেষ ট্রেন চলবে। ১৫ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের দিন ভোর পাঁচটা থেকে রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত আপ মোনাজাত বিশেষ ৪ জোড়া এবং টঙ্গী-ময়মনসিংহ বিশেষ ২ জোড়া, ঢাকা-টঙ্গী ৪ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। ১০ জানুয়ারি থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা অভিমুখী সব ট্রেন ২ মিনিট পর্যন্ত টঙ্গী স্টেশনে দাঁড়াবে।