সোমবার, ২৬শে মার্চ, ২০১৮ ইং ১২ই চৈত্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

‘এখন আমাদের উপর পাশের চাপ বেশি’

nahidনিজস্ব প্রতিবেদক : শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ‘পরীক্ষায় এখন আমাদের উপর কম পাশের চাপ নেই, উল্টো শিক্ষার্থীরা কেনো বেশি পাশ করছে সেই চাপ।’
রাজধানীর তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সোমবার সকালে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে বলেন আমরা শিক্ষকদেরকে বেশি নম্বর দিতে বলি। আমরা আগেও শিক্ষকদেরকে প্রাপ্য নাম্বারটুকু দিতে নির্দেশনা দিয়েছি। এবার পাবলিকলি বলছি শিক্ষার্থীদের যার যা পাওনা সেই নম্বরটুকুই দিন আপনারা। এর ব্যতিক্রম হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শনে আসলে শিক্ষার্থীদের সমস্যা হয়- এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এবার শুধুমাত্র মন্ত্রী এবং সচিব পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশ করেছে। বাকি সবাই বাইরে ছিলেন। কোনো ধরনের ডিসটার্ব হয়নি। পরীক্ষার হল পরিদর্শন একটা রেওয়াজ, আমরা আসলে শিক্ষার্থী ও অবিভাবকরা খুশি হন, তাই আসা।’
এবারের পরীক্ষায় শুরুতে এমসিকিউ আগে নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু অসৎ শিক্ষক আছেন যারা বাইরে থেকে এমসিকিউ উত্তরগুলো পূরণ করে দেন। এখন শুরুতে এ পরীক্ষাটা নেওয়ায় আর এ সুযোগ নেই।’
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, ‘একবারই প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু লোক আছে যারা মনে করে সবসময়ই প্রশ্ন ফাঁস হয়। কিছু সাজেশন থেকে যদি কিছু কমন পড়ে তাহলে সেই অসাধু চক্র প্রশ্ন বলে টাকা হাতিয়ে নেয়। দয়া করে কোনো অভিভাবক শিক্ষার্থীরা এসব গুজবে কান দিবেন না। তাহলে শিক্ষার্থীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।’
প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা সুপার টেকনোলজি ব্যবহার করতে পারছি না। তবে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা কাউকে বলব না। যাতে করে কেউ জানতে না পারে কোথায় কি হচ্ছে। অনেকগুলো প্রশ্ন করা হচ্ছে যেন কেউ বুঝতে না পারে কোনটা আসল প্রশ্ন। আমরা আশাবাদী এখন কারো দ্বারাই প্রশ্ন ফাঁস সম্ভব না।’
অটিজম শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথমবারের মতো বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের জন্য ৩০ মিনিট অতিরিক্ত রাখা হয়েছে এবং সাথে একজন সাহায্যকারী থাকতে পারবে। এটা আমাদের এক্সপেরিমেন্ট, দেখা যাক অটিজম শিক্ষার্থীদের জন্য সামনে আরো কি করা যায়।’
পরীক্ষা খুব ভালো হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সকল ছেলেমেয়েরা হাসিখুশিভাবে পরীক্ষা দিচ্ছে, অভিভাবকরাও খুশি।’
এবারের পরীক্ষায় মেয়ে পরীক্ষার্থীর হার বেশি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদে ছেলেমেয়েরা এখন বিজ্ঞানও পড়ছে বেশি, তবে সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ মান বৃদ্ধি। এটা পৃথিবীর কোথাও রাতারাতি হয়নি, আমাদেরও একটু সময় লাগবে।’
মন্ত্রী জানান, আজ থেকে শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৬ লাখ ৫১ হাজার ৫২৩ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে আট লাখ ৪২ হাজার ৯৩৩ ছাত্র ও আট লাখ ৮ হাজার ৫৯০ ছাত্রী।
পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে আশরাফ কবির নামের এক অভিভাবক দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘এবার এখনো কোনো প্রশ্ন ফাঁসের কথা শুনিনি। আশা রাখছি প্রশ্ন ফাঁস হবে না, সবাই ভালো পরীক্ষা দিবে, আমার ছেলেও ভালো পরীক্ষা দিবে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এবার তিন হাজার ১৪৩টি কেন্দ্রে ২৮ হাজার ১১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেবে। আটটি বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে ১৩ লাখ চার হাজার ২৭৪ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীন দাখিলে দুই লাখ ৪৮ হাজার ৮৬৫ ও এসএসসি ভোকেশনালে (কারিগরি) ৯৮ হাজার ৩৮৪ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেবে।
এবার নিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪ লাখ ৭৪ হাজার ৯২৭, অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাখ ৭৩ হাজার ৭৭৪ ও বিশেষ (এক থেকে চার বিষয়ে পরীক্ষা দেবে) পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাখ ৪৯ হাজার ৪৭ জন।
বিদেশে আটটি কেন্দ্রের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এসব কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০৪ জন।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধী ও যাদের হাত নেই— এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী শ্রুতিলেখক নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারবেন। অন্যান্য বছরের মতো এবারও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবেন।
এবারই প্রথম বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (অটিস্টিক ও ডাউন সিনড্রোম বা সেরিব্রাল পালসি আক্রান্ত) পরীক্ষার্থীদের ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় পাবেন। একই সঙ্গে পরীক্ষার কক্ষে তাদের অভিভাবক বা শিক্ষক বা সাহায্যকারী নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সারাদেশে সাতজন অটিস্টিক ব্যক্তি এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।
এবার বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ইংরেজি প্রথম পত্র, ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র ছাড়া সকল বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।
আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৮ মার্চ পর্যন্ত এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৯ মার্চ সঙ্গীতের ব্যবহারিক পরীক্ষা এবং ১০ থেকে ১৪ মার্চের মধ্যে বেসিক ট্রেডসহ এসএসসির সব বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সময়সূচি অনুযায়ী, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে তত্ত্বীয় শেষ হবে ১০ মার্চ। এক্ষেত্রে ১৫ মার্চ থেকে ১৯ মার্চের মধ্যে সকল ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা বলা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email