g প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাচ্ছেন ১৪ অক্টোবর | AmaderBrahmanbaria.Com – আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া

রবিবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাচ্ছেন ১৪ অক্টোবর

AmaderBrahmanbaria.COM
জুলাই ১৯, ২০১৬
news-image

---

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩ দিনের সরকারি সফরে ১৪ অক্টোবর ভারত সফরে যেতে পারেন। ব্রিকস ব্লকের শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দিতে তিনি এ সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ভারতের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ইতিমধ্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ব্রিকস বিশ্বের পাঁচটি প্রভাবশালী দেশের একটি জোট। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত ‘ব্রিকস’ এ অঞ্চলের বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কার নিয়ে কাজ করছে।

hasina

 

১৫ ও ১৬ অক্টোবর ভারতের পর্যটন নগরী গোয়ায় অষ্টম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও আয়োজক ভারতের বিশেষ আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। শেখ হাসিনাকে বঙ্গোপসাগরীয় জোট বিমসটেকের একজন নেতা হিসেবে এ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২১ জুলাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বেনাপোল ও পেট্রাপোল স্থল বন্দরে সমন্বিত চেকপোস্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কলকাতা থেকে এ ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বর্তমান বিশ্বে ব্রিকস একটি প্রভাবশালী জোট যা বিশ্ব জনসংখ্যার ৪২ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। এ জোটের দেশগুলোর মোট জিডিপির পরিমাণ ১৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের একটি অধিবেশনে তিনি বক্তব্য রাখবেন। পাশাপাশি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট মাইকেল টিমার, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার সঙ্গে পৃথকভাবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, গোয়ায় ব্রিকস সম্মেলনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন। বিশেষ করে ভারতের প্রতিশ্রুত তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে বিশদ আলোচনা করতে পারেন। পাশাপাশি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি অধিক গুরুত্ব পেতে পারে। গুলশান ও শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতের এ বিষয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তাসংক্রান্ত একজন যুগ্ম সচিব সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন। ভবিষ্যতে জঙ্গিবাদের অভিন্ন উদ্বেগ মোকাবেলায় দু’দেশ কিভাবে সহযোগিতা করতে পারে সেসব বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। এছাড়াও বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কানেকটিভিটিসহ বিভিন্ন খাতে দু’প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সহযোগিতার নানা দিক আলোচনায় উঠে আসতে পারে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা সোমবার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরের সার্বিক প্রস্তুতি এখনও সম্পন্ন হয়নি। এ বিষয়ে দু’দেশের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো কাজ করছে। আশা করা যায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে যেসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল, সেগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া গুরুত্ব পাবে।

এদিকে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল ও পেট্রাপোলে বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভারতীয় অংশে অর্থাৎ পেট্রাপোলে অনেক অবকাঠামো সুবিধা নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ অবশ্য আগেই এসব অবকাঠামো নির্মাণ করেছিল। তবে বাংলাদেশ এবার ভারতের নতুন অবকাঠামো সুবিধার সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব সীমান্ত অবকাঠামো সুবিধা উদ্বোধন করবেন ২১ জুলাই। এ ব্যাপারে প্রস্তুতির লক্ষ্যে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর দফতরে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সার্বিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় গণভবনে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লিতে এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী কলকাতায় থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেবেন। বেনাপোল ও পেট্রাপোলের ওই সময়ে অবস্থা দেখানোর লক্ষ্যে সেখানেও সরাসরি ভিডিও সংযোগ থাকবে।

ভারত পেট্রাপোল সীমান্তে ‘ইন্ট্রিগ্রেটেড চেক পোস্ট’ (আইসিপি) নামে দু’দেশের স্থল বাণিজ্যের সুবিধা বাড়াতে একই কমপ্লেক্সে সব ধরনের কাজ সম্পাদনের সুবিধা সৃষ্টি করেছে। আইসিপির আওতায় ভারত নিজ দেশের ভূখণ্ডে ওয়্যার হাউস, ইয়ার্ড, প্রশাসনিক ভবন, ক্যান্টিন ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করেছে। আর বাংলাদেশ ভারতের নবনির্মিত আইসিপি পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক নির্মাণ করেছে। এসব সুবিধা দুই প্রধানমন্ত্রী একযোগে উদ্বোধন করবেন।

জানতে চাইলে বেনাপোল স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক নিতাই চন্দ্র সেন সোমবার বলেন, ভারত পেট্রাপোলে যেসব অবকাঠামো সুবিধা নির্মাণ করেছে, সেগুলো বাংলাদেশ অনেক আগেই বেনাপোলে নির্মাণ করেছে। তবে ভারত পরে এসব অবকাঠামো তৈরি করায় তাদের অবকাঠামোগুলো আধুনিক। আমরা সংযোগ সড়ক নির্মাণ করেছি। বেনাপোলে বাংলাদেশের ৩৮ হাজার টন পণ্যের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ওয়্যার হাউস রয়েছে।

বেনাপোল ও পেট্রাপোলে আমদানি-রফতানির সুবিধা নিশ্চিত করার জন্যে অবকাঠামো সুবিধার দাবি দু’দেশের ব্যবসায়ীরা করে আসছিলেন। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সোমবার জানান, বেনাপোল ও পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি-রফতানি হয়। বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন ৩০০ ট্রাক ভর্তি পণ্য ভারতে রফতানি হয়। এসব ট্রাকে বাংলাদেশ পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, সাবান, তৈজষপত্র রফতানি করে। অন্যদিকে, ভারত থেকে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ ট্রাক ভর্তি পণ্য বাংলাদেশে আমদানি হয়। এসব ট্রাকে মেশিনারি, রাসায়নিক পণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যসহ অসংখ্য পণ্য আমদানি হয়।

আমাদের বেনাপোল প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বেনাপোলে ১২টি বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা রয়েছে। এসব ব্যাংকের শাখা থেকে টাকা তুলে স্থলবন্দরে অবস্থিত সোনালী ব্যাংকে আমদানিকারকদের শুল্কায়নের টাকা জমা দিতে হয়। এ সময় পথে অনেক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ কারণে স্থলবন্দরে ব্যাংকগুলোর শাখা স্থানান্তর করা গেলে এ সমস্যা দূর করা সম্ভব। এছাড়াও, পণ্যের ওয়্যার হাউসের ভাড়া পরিশোধ করতে হয় বন্দরের জনতা ব্যাংকে। এসব কারণে ভোগান্তি এখনও রয়ে গেছে।

এ জাতীয় আরও খবর