শুক্রবার, ১৯শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং ৬ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

কারিনার আচরণে বিস্মিত শহিদ

AmaderBrahmanbaria.COM
এপ্রিল ৩০, ২০১৪

অনলাইন ডেস্ক : ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ফিদা’ ছবিতে জুটি বেঁধে অভিনয় করতে গিয়ে প্রণয়ের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন কারিনা কাপুর ও শহিদ কাপুর। টানা তিন বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর বিচ্ছেদের পথে হাঁটে এ জুটি। পরবর্তী সময়ে মুখোমুখি হয়ে গেলে একে অন্যকে এড়িয়ে চলেছেন তাঁরা। কিন্তু এবারের আইফা আসরে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্রই দেখা গেছে। কারিনার উদ্যোগে সেখানে কুশলবিনিময় হয়েছে সাবেক এ প্রেমিক যুগলের মধ্যে। কারিনার এমন আচরণে যারপরনাই বিস্মিত ‘যব উই মেট’ তারকা শহিদ। 


শহিদ-কারিনাসদ্য সমাপ্ত আইফার ১৫তম আসর উপস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন বলিউডের দুই অভিনেতা শহিদ কাপুর ও ফারহান আখতার। অনুষ্ঠানে পুরস্কার প্রদানের জন্য স্বামী সাইফ আলী খানের সঙ্গে মঞ্চে ওঠেন কারিনা। সে সময় মঞ্চের একপাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন শহিদ ও ফারহান। হঠাত্ করেই শহিদকে উদ্দেশ করে ‘হাই’ বলেন কারিনা। ঘটনার আকস্মিকতায় নিজের কানকেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না শহিদ। প্রচণ্ড হকচকিয়ে গেলেও তা প্রকাশ না করে শহিদও শান্ত সুরে কারিনাকে ‘হাই’ বলেন। 


কুশলবিনিময়ের পর শহিদ ও ফারহানের প্রশংসাও করেন ‘হিরোইন’ তারকা কারিনা। তিনি বলেন, দারুণ উপস্থাপনা করছেন ফারহান ও শহিদ। তখন শহিদের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসি উপহার দিয়ে কারিনার প্রশংসা-বাক্যের প্রতি নিজের সমর্থন জানান পতৌ

দির নবাব ও বলিউডের অভিনেতা সাইফ আলী খানও। ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে এমনটিই জানিয়েছে ওয়ান ইন্ডিয়া।



সাইফ ও কারিনা যতক্ষণ মঞ্চে ছিলেন, ততক্ষণ নিজের বিস্ময় আড়াল করে রাখলেও, তাঁরা মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার পর একটু ধাতস্থ হন শহিদ। কারিনার মুখ থেকে সত্যি সত্যিই ‘হাই’ শব্দটি শুনেছেন কি না, তা ঠিক নিশ্চিত হতে পারছিলেন না শহিদ। এ জন্য তিনি ফারহানকে জিজ্ঞেস করে বসেন, ‘কারিনা কি সত্যিই আমাকে ‘‘হাই’’ বলেছিল?’


ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ান ফিল্ম একাডেমি অ্যাওয়ার্ড ২০১৪ আসরের পর্দা নেমেছে ২৬ এপ্রিল। এবারের আইফা আসরের অনেক স্মরণীয় মুহূর্তের মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে শহিদ-কারিনার এই কুশলবিনিময়।


প্রসঙ্গত, ২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর প্রেমের জোয়ারে ভেসেছেন শহিদ-কারিনা। কিন্তু ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া এই জুটির ‘যব উই মেট’ ছবির শুটিং চলাকালে ভেঙে যায় তাঁদের প্রেম। তবে খুব বেশিদিন বিচ্ছেদের যন্ত্রণা সইতে হয়নি কারিনাকে। ২০০৭ সালেই সাইফের মধ্যে নতুন মনের মানুষের সন্ধান পেয়ে যান কারিনা। সে বছরের অক্টোবরে যশ রাজ ফিল্মসের ‘তাসান’ ছবির শুটিং করার সময় একে অন্যের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন সাইফ-কারিনা। সেই শুরু তাঁদের প্রেমের তরী বাওয়া। পাঁচ বছর পর সেই তরী গিয়ে তীরে ভেড়ে। ২০১২ সালের ১৬ অক্টোবর বয়সে ১০ বছরের বড় সাইফের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন কারিনা কাপুর খান।


অন্যদিকে, কারিনার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ভেঙে না পড়ে বিষয়টিকে সহজভাবেই নিয়েছিলেন শহিদ। এ প্রসঙ্গে তাঁর ভাষ্য ছিল, ‘কারিনার প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। সে চমত্কার একজন মেয়ে। আমি চাই, পৃথিবীর সব সুখ তাকে ঘিরে থাক।’ সমবয়সী কারিনার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর থেকে ব্যাচেলর তকমা ধরে রেখেছেন ৩৩ বছর বয়সী শহিদ। মিডিয়ার সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে বিশাল এক দেয়াল তৈরি করেন তিনি। কোনো অবস্থাতেই যাতে তাঁর ব্যক্তি জীবনের খবর ফাঁস হতে না পারে, সে জন্য সবরকম চেষ্টাই তিনি চালিয়ে গেছেন। তার পরও ভারতের আবেদনময়ী টেনিস খেলোয়াড় সানিয়া মির্জা থেকে শুরু করে বলিউডের একাধিক অভিনেত্রীর সঙ্গে শহিদের প্রেমের খবর চাউর হয়েছে। তাঁর প্রেমিকার তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে বিদ্যা বালান, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, নার্গিস ফাকরি, বিপাশা বসু ও সোনাক্ষী সিনহার নাম।   

এ জাতীয় আরও খবর