বুধবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং ৯ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

অবশেষে পিআইও বদলি : জনপ্রতিনিধি ও জনমনে স্বস্থি

B Baria Map Mainসরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : অবশেষে সরাইলের সেই ভয়ঙ্কর ঘুষখোর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম মিয়াজী বদলি হয়েছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটারে তার বদলির আদেশ হয়। কাজ নয় টাকা চাই- উক্তি সম্পন্ন পিআইও’র বদলির খবরে সরাইলের ৯টি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ও সাধারন মানুষ স্বস্থির নিঃশ^াস ফেলছেন। বদলি ঠেকাতে স্থানীয় কিছু নেতার কাছে জোরে শোরে তদবিরও করেছেন। দৌড়ঝাঁপ করেছেন মন্ত্রণালয় পর্যন্ত। কিন্তু কোন কিছুই ধোপে ঠিকেনি। বদলির কিছু দিন আগেও তিনি কর্মসৃজন প্রকল্প, কাবিখা ও ব্রীজের কাজ থেকে কোটি টাকার উপরে মাসোয়ারা নেয়ার অভিযোগ সবার মুখে মুখে চাউর হচ্ছে। সরাইলের সর্বত্র এখন মিয়াজীর ৩ বছরের কর্মকালীন সময়ের হিসাব নিকাশ চলছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৮ জুন সরাইলে যোগদান করেন পিআইও মিয়াজী। যোগদানের পরই মাসোয়ারা আদায়ে বেপরোয়া হয়ে পড়েন তিনি। তার লাগামহীন ঘুষ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, ব্যবসায়িসহ স্থানীয় লোকজন। টি আর, কাবিখা, কাবিটা ও কর্মসৃজন প্রকল্পে মাসায়োরা আদায়ে তিনি অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে ফেলেন। কাজ পরিদর্শনে গিয়ে টাকা ছাড়া ফিরেননি তিনি। প্রত্যেক কর্মসৃজন প্রকল্পে তিনি ৬০-৭০ লাখ টাকা করেছেন। প্রত্যেক ইউনিয়নে ঘোষনা দিয়ে ৫০ ভাগ শ্রমিক কম খাটাতেন। আর সেই টাকা বাগিয়ে নিতেন তিনি। ৩ বছরে শুধু কর্মসৃজন প্রকল্প থেকে মিয়াজী কামাই করেছেন ২ কোটি টাকা। টন প্রতি আড়াই হাজার টাকা না দিলে তিনি আটকে দিতেন ডিও। মাষ্টাররোলের জন্য নিতেন আলাদা ভিজিট। তিনি লোকজনকে সব সময় বলতেন- কাজ নয় আমি টাকা চাই। বেশী বা ভাল কাজ করলে তিনি রাগ করতেন। প্রকল্পে সোলারযুক্ত হওয়ার পর তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে যান। ৫-৬ হাজার টাকার সোলারের জন্য তিনি নিয়েছেন ১০-১২ হাজার টাকা করে। আবার তার নিযুক্ত ঠিকাদারের কাছ থেকে উনি নিজেই ক্রয় করে দিবেন। অন্য কোন জায়গা থেকে ক্রয় করা যাবে না সোলার। ২ হাজার টাকায় পুরাতন সোলার ক্রয় করে গ্রাহকের কাছে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। চাহিদা মাফিক টাকা না পেলে তিনি আটকে দিতেন টি আর কাবিখার ডিও। সম্প্রতি ৯টি ব্রীজ অনুমোদন করিয়েছেন এমপি। আর পিআইও লোকজনকে ধমকি দিয়ে প্রত্যেকটি ব্রিজের জন্য দেড় লাখ টাকা করে আদায় করেছেন। মেরে খেয়েছেন নন-ওয়েজ কষ্টের লাখ লাখ টাকা। তার ঘুষ আদায় এক সময় ভয়ঙ্কর রুপ ধারন করে। অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গম চাউল ব্যবসায়িরা। তার বিরুদ্ধে একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় ঘুষ আদায়ের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা কিছুদিন দৌঁড়ঝাপ করেন। তাকেও দেখা যায় বিচলিত। কিছুদিন পর আবার পাল্টে যায় চেহারা। দম্ভ করে তিনি চাউর করেন- টাকা দিলে সব ঠিক হয়ে যায়। তার মাত্রাতিরিক্ত ঘুষ গ্রহনের যন্ত্রণা সইতে না পেরে লোকজন এমপি’র শরানাপন্ন হন। তার উপর চরম ভাবে ক্ষুদ্ধ হন স্থানীয় এমপি। এমপি’র নির্দেশেও থামেনি তার মাসোয়ারা বাণিজ্য। বাধ্য হয়ে এমপি দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে মিয়াজীকে বদলির জন্য ডিও লেটার দেন। ডিও লেটারে এমপি পিআইও’র কর্মকান্ডকে জনগণের পক্ষে সহনশীল নয় এবং জনস্বার্থের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেন। পরে কর্তৃপক্ষ তাকে বদলির নির্দেশ দেন নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলায়। বদলির পত্র পেয়ে হতবিহবল হয়ে যান পিআইও। কিন্তু এ খবরে স্বস্থির নিঃশ^াস ফেলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ি ও সাধারন মানুষ। তারা এমপিকে বাহবা জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ি আক্ষেপ করে বলেন, গত ১৫-১৬ বছরের মধ্যে সরাইলে এত বড় মাপের ঘুষখোর পিআইও আসেনি। তার যাতাকলে আমাদের দম বন্ধ হয়ে আসছিল। তার ভিতরে মানবতাবোধ নেই। সর্বক্ষণ শুধু টাকা পকেটে নেয়ার চিন্তা ছিল। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছে।