রবিবার, ১০ই জুন, ২০১৮ ইং ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

দোয়াটি পড়লে ‘হাই’ উঠা বন্ধ হয়ে যায়!

news-image

এক সময় আমি প্রচুর হাই তুলতাম। কথা নেই বার্তা নেই, যখন-তখন হাই আর হাই। একটু অন্য মনস্ক হয়ে বসে থাকলেই হাই উঠত। এর কোনো কারণ খুঁজে পেতাম না। অনেককে বলতে শুনতামÑ অলসদের হাই বেশি উঠে। কিন্তু কথাটা কোনো ক্রমেই মানতে পারতাম না। কারণ, আমি অলস না বরং তার বিপরীত। আমার বিজ্ঞানমন আমাকে বার বার বোঝাতে চাইতোÑ ‘এই ব্যাটা, তোর ৎবংঢ়রৎধঃড়ৎু ঃৎধপঃ পুরোপুরি সুস্থ না, তাই ঠিকমতো ব্লাডের অক্সিজেন সেচুরেশন ঠিক রাখতে পারিস না, সেজন্যই বার বার হাই তুলিস।’
আমি আমার বিজ্ঞানমনকে বহুকাল মেনে চললাম। কিন্তু অস্বস্তি লাগল তখন, যখন জানলাম বিজ্ঞানীরা এই হাইপোথিসিস বহু আগেই বাদ দিয়েছেন। একদিন হাই তুলতে গেলে আমার এক বন্ধু কী জেন লক্ষ্য করল, তারপর আমাকে জিজ্ঞাস করলÑ ‘কিরে তুই হাই তোলার পর ‘লা হাওলা’ পড়স না?
-কি কইলি?
-বল্লাম, ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা’ পড়স না?
-কি বলিস! হাচির পর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে হয় জানি। কেউ ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে পাশের জন তা শুনে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলতে হয় জানি, কিন্তু হাই দেওয়ার পর কিছু পড়তে হয় নাকি?
-ও আল্লাহ, রহম কর মাবুদ!
-হইছে, বেশি পাট লইস না, কি পড়তে হয় বল, শুনি।
-হাই উঠলে ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়ুল আজিম’ (অর্থ : আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কারো কোনো কাজ করার শক্তি নেই।) পড়তে হয়।
তারপর থেকে হাই উঠলেই আমি এ দোয়া পড়ি। জানিÑ আপনাদের বিশ্বাস আপনাদের কাছে। কিন্তু এইটুক বলতে পারি যে, ওই দিনের পর আমার তেমন আর হাই-ই আসে না। আর যদি আসেও আমার মুখ দিয়ে ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়ুল আযিম’ উচ্চারণ শেষ হওয়ার আগেই হাই বন্ধ হয়ে যায়। এটা নিশ্চয় আল্লাহর বিশেষ রহমত। পাঠক, আশা করি আজ থেকে আপনারাও আমলটি করবেন। এতে বিরক্তিকর ‘হাই’ বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে সওয়াবেরও ভাগিদার হবেন।

Print Friendly, PDF & Email